আন্তর্জাতিক

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭

  প্রতিনিধি ১৬ আগস্ট ২০২৬ , ১১:৪৯:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ও একের পর এক আফটারশকে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭ এ পৌঁছেছে। শনিবার ভোরে আঘাত হানা ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন এলাকায় সুনামির ঢেউও দেখা গেছে। দেশটির দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা বিএনপিবি সর্বশেষ বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের অঞ্চল নাগেওকেওতে এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পাশাপাশি মোবাইল যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে। ফলে সেখানে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো জানা যায়নি। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।

পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের তালিবুরা গ্রামের ৫১ বছর বয়সী বাসিন্দা নোনা বলেন, ভূমিকম্পের কম্পন ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। তিনি জানান, ভূমিকম্পের সময় তার বাড়ির ভেতরে ১৩ জন ছিলেন। কম্পন শুরু হলে সবাই প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান।

ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার সুনামির ঢেউ রেকর্ড করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর কর্তৃপক্ষ সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করে।

 

ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু মানুষ

পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরেস দ্বীপের প্রধান শহর মাউমেরেতে উদ্ধারকারীরা ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত এবং দুজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে শহরটির উদ্ধার সংস্থার প্রধান ফাথুর রহমান জানিয়েছেন।

বিএনপিবি প্রধান সুহারিয়ান্তো জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিভিন্ন ভবনে এখনো মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। বেশ কয়েকটি সড়কে ভূমিধসের কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

নাগেওকেওতে যাওয়ার সড়কপথের চেষ্টা ভূমিধসের কারণে ব্যর্থ হয়েছে। উদ্ধারকারী দলের আরেকটি অংশ ফেরিতে করে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। ওই এলাকায় প্রায় ২ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিএনপিবি জানিয়েছে, নাগেওকেওতে বাড়িঘর, গুদাম ও সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের গভর্নর এমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা জানিয়েছেন, ভবন ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

 

ক্ষতিগ্রস্ত শত শত স্থাপনা

প্রাথমিক হিসাবে, ভূমিকম্পে ১৫৭টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঝারি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪১টি এবং সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ১৪৮টি বাড়ি।

এ ছাড়া ৮৭টি স্কুল, ১৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পাঁচটি উপাসনালয় ও ছয়টি সরকারি কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যান্য অবকাঠামোরও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

মাউমেরে বন্দরে ভূমিকম্পের সময় একটি ভবনের অংশ ধসে ধুলা ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রয়টার্স ভিডিওটি যাচাই করে জানিয়েছে, এটি মাউমেরে বন্দরে ধারণ করা হয়েছিল। ধসে পড়া ভবনের নিচে জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা তল্লাশি চালাচ্ছেন।

মাউমেরে বন্দরের কাছে বসবাসকারী ৩৭ বছর বয়সী সিতি সালফিয়া বিরা জানান, কম্পন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উঁচু এলাকায় চলে যান। পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল না হওয়ায় তারা বাড়িতে ফিরতে সাহস করছেন না বলেও জানান তিনি।

 

আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় মানুষ

বিএনপিবি জানিয়েছে, পূর্ব নুসা তেংগারা, পশ্চিম নুসা তেংগারা এবং দক্ষিণ সুলাওয়েসির বিভিন্ন এলাকায় শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে। কোথাও কোথাও প্রায় এক মিনিট ধরে কম্পন স্থায়ী হয়।

ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। এন্ডে জেলার একটি হাসপাতাল থেকে রোগীদের নিরাপদে বাইরে সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্যও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ফুটেজে দেখা গেছে। ওই এলাকায় অন্তত একটি ভূমিধসের খবর পাওয়া গেছে।

ইন্দোনেশিয়ার ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর গভীরতা ছিল প্রায় ১৫ কিলোমিটার। এরপর বেশ কয়েকটি আফটারশক অনুভূত হয়।

বিএমকেজি জানিয়েছে, একই অঞ্চলে ১৯৯২ সালে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়ার সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সমুদ্রের নিচে সংঘটিত এই ভূমিকম্পের কারণে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড, দ্বীপ বা অঞ্চলগুলোতে সুনামির কোনো হুমকি নেই।

ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ ইন্দোনেশিয়া ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত। প্রশান্ত মহাসাগর ঘিরে থাকা এই ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চলে টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষের কারণে দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

এর আগে ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের পালু শহরে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ সুনামি আঘাত হানে। ওই ঘটনায় ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন।

আরও খবর

Sponsered content