সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ১১ মে ২০২৬ , ১০:৩২:৩৮ প্রিন্ট সংস্করণ
সুন্দরবনের গভীরে বাঘের আক্রমণের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন এক মৌয়াল। সঙ্গীদের সাহসী প্রতিরোধে প্রায় ১৫ মিনিট পর বাঘের কবল থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
রোববার সকাল ৮টার দিকে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কাছিকাটা এলাকার পায়রাটুনি খালে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আহত মৌয়ালকে লোকালয়ে আনা হয়।
আহত বাবলু গাজী (৪৮) শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের মালেক গাজীর ছেলে।
মৌয়াল ইউসুফ গাজীর নেতৃত্বে বাবলু গাজী, তার বাবা মালেক গাজীসহ ১১ জনের একটি দল বুধবার সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে যান।
সহযোগীরা জানান, রোববার সকালে পায়রাটুনি খাল এলাকায় মধু সংগ্রহের সময় হঠাৎ ঝোপের আড়াল থেকে একটি বাঘ বাবলু গাজীর ওপর হামলা চালায়। এ সময় সঙ্গে থাকা অন্য মৌয়ালরা চিৎকার করে লাঠিসোটা নিয়ে বাঘটির ওপর পাল্টা আক্রমণ করেন।
প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ধস্তাধস্তির পর বাঘটি বাবলু গাজীকে ছেড়ে চলে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বনসংলগ্ন এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। সোমবার সকালে তাকে শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনীতে আনা হলে সেখান থেকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আহতের বাবা মালেক গাজী বলেন, “হঠাৎ বাঘ এসে আমার ছেলেকে আক্রমণ করে। তাকে বাঁচাতে আমরা কয়েকজন লাঠিসোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ি। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট লড়াই করে তাকে ছাড়িয়ে আনতে সক্ষম হই। তবে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে।”
আরেক মৌয়াল আরাফাত গাজী বলেন, “সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়। একদিকে বাঘের ভয়, অন্যদিকে বনদস্যু ও কুমিরের আতঙ্ক। এরপরও জীবিকার তাগিদে আমাদের বনে যেতে হয়।”
তিনি আরও বলেন, মহাজনদের নির্ধারিত কম দামে মধু বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় মৌয়ালরা আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এ বিষয়ে বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেন, “একজন মৌয়াল বাঘের আক্রমণের শিকার হয়েছেন বলে শুনেছি। তবে তার পরিবার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। আহত মৌয়ালের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।”




















