ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের চিহ্নিত নেতারা যখন আত্মগোপনে, তখন রাজধানীর বনানী এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন ২০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ শহর আলী—এমন অভিযোগ উঠেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে তিনি এখনও অধরা রয়েছেন বলেও দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেকে রক্ষার পাশাপাশি নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির লক্ষ্যে বনানীর একটি ডেকোরেটর দোকানে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করছেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বনানীর ওয়ারলেস গেইট এলাকার ‘তানভীর ডেকোরেটর’ নামের একটি দোকান এখন শহর আলীর প্রধান অবস্থানস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে নিয়মিত গোপন বৈঠক হয়, যেখানে জামায়াত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। এসব বৈঠকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শহর আলী এলাকায় প্রভাবশালী ও আতঙ্কের কারণ ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দমন-পীড়নের অভিযোগ রয়েছে।
কড়াইল বস্তি ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহর আলী দীর্ঘদিন ধরে বিচার-সালিশের আড়ালে ‘ফিটিং বাণিজ্য’ এবং চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন,“শহর আলীর কথা না শুনলে বস্তিতে থাকা কঠিন ছিল। যাকে ইচ্ছা ধরে নিয়ে যেত বা হয়রানি করত। এখন আবার তাকে প্রকাশ্যে ঘুরতে দেখে আমরা আতঙ্কে আছি।”
শহর আলীর কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। ২০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন,
“গত ১৫ বছরে সে আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে। এখন নিষিদ্ধ দলের নেতা হয়েও অন্য দলের সঙ্গে আঁতাত করে নতুন করে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। আমরা তার দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করছি।”
বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, “শেখ শহর আলীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগ রয়েছে। আমাদের রেকর্ড অনুযায়ী তিনি পলাতক। তবে তার প্রকাশ্যে চলাফেরা বা বৈঠকের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
বনানী ও কড়াইল এলাকায় শহর আলীর সক্রিয়তার খবরে উদ্বেগ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীদের দাবি, দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হোক।