প্রতিনিধি ৩ জুন ২০২৬ , ২:৫৩:০৪ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর বনানীর মহাখালী ওয়্যারলেস গেইট মোড়ে পথচারীদের বিশ্রামের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নির্মিত বিশ্রামস্থল এখন অস্থায়ী চা-সিগারেটের দোকানগুলোর দখলে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে পথচারীদের জন্য নির্মিত এই স্থাপনা বর্তমানে তার উদ্দেশ্য হারাতে বসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক এই বিশ্রামস্থল নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আলোকসজ্জা স্থাপন এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল। তবে স্থাপনের কিছুদিন পর থেকেই আলোকসজ্জা অকার্যকর হয়ে পড়ে। রোপণ করা গাছগুলোরও বর্তমানে কোনো অস্তিত্ব নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্রামস্থলের বড় অংশজুড়ে চা, সিগারেট ও বিভিন্ন পণ্যের অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। দোকানগুলোর সামনে সার্বক্ষণিক ভিড় থাকায় পথচারীরা সেখানে বসার সুযোগ পাচ্ছেন না। পাশাপাশি প্রকাশ্যে ধূমপানের ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে।
পথচারী আবদুল করিম বলেন, “এই জায়গাটি ক্লান্ত পথচারীদের বিশ্রামের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পুরো জায়গা দোকানদার ও ক্রেতাদের দখলে। বসার সুযোগ নেই বললেই চলে। ধূমপানের কারণে পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে।”
আরেক পথচারী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “বাসের জন্য অপেক্ষা করতে এসে কিছুক্ষণ বসার সুযোগ পাওয়ার কথা। কিন্তু এখানে সবসময় দোকানের ভিড় থাকে। নারী ও শিশুদের জন্য পরিবেশটি বেশ বিব্রতকর।”
তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মীরা বলছেন, প্রকাশ্য স্থানে ধূমপান আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় নিয়মিত প্রকাশ্যে ধূমপান চললেও কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।
বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের এক কর্মকর্তা বলেন, “পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ। পথচারীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে ধূমপান শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশ্রামস্থলের পাশেই বনানী থানা বিএনপির কার্যালয় থাকলেও অবৈধ দোকান অপসারণ কিংবা পরিবেশ সংরক্ষণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
তবে বনানী এলাকার এক বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সরকারি জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা সমর্থনযোগ্য নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে। পথচারীদের জন্য নির্মিত স্থাপনার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, “পথচারীদের সুবিধার্থে নির্মিত কোনো স্থাপনা দখল হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দেখা হবে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, অকার্যকর আলোকসজ্জা পুনরায় চালু, নতুন করে বৃক্ষরোপণ এবং পথচারীদের জন্য বিশ্রামস্থলটি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জনসাধারণের অর্থে নির্মিত অবকাঠামো জনগণের কাজে ব্যবহার নিশ্চিত না হলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।




















