শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন

৫ আগস্ট ও কারাগারের শেষ রাতের স্মৃতি তুলে ধরলেন ছাত্রদল নেতা সুমন সরদার

  জবি প্রতিনিধি ৭ আগস্ট ২০২৬ , ১১:৫৪:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ

ছাত্রদল নেতা সুমন সরদার ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাবহুল দিন এবং কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে কাটানো শেষ রাতের স্মৃতিচারণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ লেখায় তিনি কারাগারের ভেতরের বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা দেন।

সুমন সরদারের দাবি, ৫ আগস্ট ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের বনফুল ভবনের ১০৭ নম্বর কক্ষে থাকা অবস্থায় এক কারারক্ষী তাকে গরম খিচুড়ি দেন। ঘটনাটি তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই দিন সকালে কয়েক মিনিটের জন্য বন্দিদের ভবনের ভেতরে হাঁটার সুযোগ দেওয়া হয়, যা আগে দেখা যায়নি বলেও তার দাবি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরের দিকে কারাগারের বিভিন্ন ভবন থেকে স্লোগানের শব্দ ভেসে আসে। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন—এমন খবর কারাগারের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। এ খবরের পর বন্দিদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তারা শুকরানা নামাজ আদায় করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সুমন সরদার আরও দাবি করেন, পরে কারারক্ষীরা তাকে প্রস্তুত হতে বলেন এবং অন্য একটি ভবনে নিয়ে যান। সেখানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আমিনুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী ও ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তার দেখা হয়।

তিনি আরও লেখেন, রাতে কারাগারের বিভিন্ন ভবন থেকে নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন এবং জ্যেষ্ঠ নেতারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। পরদিন ভোরে কারা কর্তৃপক্ষের অনুরোধে বিএনপির নেতারা বিভিন্ন ভবনে গিয়ে বন্দিদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। পরে কারাগারের ভেতরে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

সুমন সরদারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় কয়েকজন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি কারাগার ভেঙে পালানোর চেষ্টা করলে সাময়িক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তিনি জানান, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে রুহুল কবির রিজভী, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ বিএনপির অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে তিনিও কারাগার থেকে মুক্তি পান।

আরও খবর

Sponsered content