শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন

কুবির ১১ শিক্ষককে খুঁজতে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি

  প্রতিনিধি ৬ আগস্ট ২০২৬ , ১:০০:১১ প্রিন্ট সংস্করণ

সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষক গোপনে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামে টেলিগ্রামে খোলা একটি সিক্রেট গ্রুপের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

ওই প্রতিবেদনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ১১ জন শিক্ষকের নামও রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা নিরূপণে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়, গত ৪ ও ৫ আগস্ট বিভিন্ন জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত ওই সংবাদের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের তৎপরতা এবং নাম প্রকাশিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন (বর্তমান ও সাবেক) শিক্ষকের সম্পৃক্ততা বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত যাচাই, শিক্ষকদের পরিচয় ও কার্যক্রম নিরূপণের লক্ষ্যে উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

৪ সদস্যের কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ফয়সল বিন আবদুল আজিজ এবং আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পিন্টু চন্দ্র পাল। এছাড়া সদস্য-সচিব হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মনিরুজ্জামান।

প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষকের নাম ওই তালিকায় রয়েছে। তারা হলেন, ড. কাজী ওমর সিদ্দিকী, বাদশা মিয়া, মো. ইকরাবুল হক, ড. আবদুল্লাহ আল মাসুম, আলম (সাংকেতিক নাম), অধ্যাপক ড. এম. এ. এ. মামুন, আইয়ুব আনসারী পিনু, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রাসেল, রাসূল আমিন, জি. এম. সাদিক হাসান এবং ড. হেলাল উদ্দিন।

কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, ‘আজই আমরা অফিস আদেশটি পেয়েছি। প্রকাশিত সংবাদে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষকের নাম এসেছে। প্রাথমিকভাবে দেখেছি, সেখানে কয়েকটি নামের গরমিল রয়েছে। এসব তথ্যের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই করাই আমাদের মূল কাজ। খুব শিগগিরই কমিটির সভা করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করব এবং নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেব।’

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া আমাদের দায়িত্ব নয়। আমরা কেবল তদন্ত করে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদন দাখিল করব। পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেবে।’

উল্লেখ্য, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content