প্রতিনিধি ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৯:৩৫:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ
কুষ্টিয়ার মিরপুরে নাশকতার মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ কৃষক লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তারের পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় তদবির করতে গিয়ে জামায়াত ও বিএনপির আট নেতাকর্মী আটক হয়েছেন। পরে মুচলেকা নিয়ে উভয় দলের দায়িত্বশীল নেতাদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। তবে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার কৃষক লীগ নেতা হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার চিথলিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি চিথলিয়া ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি মিরপুর থানায় নাশকতার অভিযোগে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়। তার গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপির আট নেতাকর্মী থানায় যান। সেখানে তারা হাফিজুরকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে তদবির করতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাদেরও আটক করে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন চিথলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলাম (৪৫), জামায়াত সমর্থক মারুফ (২১), বাশার (৩৫), মফিজুল প্রামাণিক (৪০), জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০), বাদল প্রামাণিক (৫০), বিএনপির কর্মী মেহেরুল ইসলাম (৪৫) ও বিএনপি সমর্থক শহীদুল ইসলাম (৫৩)।
আজ শনিবার দুপুরে মুচলেকা নিয়ে আটজনকে তাদের নিজ নিজ দলের দায়িত্বশীল নেতাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, ‘থানায় যারা গিয়েছিলেন, তারা তাদের দলের সমর্থক। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছে।’
গ্রেপ্তার সিরাজুল ইসলামের বিষয়ে মিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমির রেজাউল করিম বলেন, ‘প্রতিবেশী হিসেবে সিরাজুল ইসলাম থানায় গিয়েছিলেন। গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান ফ্যাসিস্ট আমলে তাদের (আওয়ামী লীগের) সমর্থক ছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি সাধারণ মানুষের মতোই চলাফেরা করতেন। আমাদের সঙ্গেও তার ভালো সম্পর্ক ছিল এবং তিনি সাধারণ মানুষের মতোই চলতেন।’
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নাশকতা মামলার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য নিষেধ করার পরও তারা বারবার তদবির করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদেরও আটক করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে মুচলেকা নিয়ে উভয় দলের দায়িত্বশীল নেতাদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে নাশকতার মামলায় হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।















