সারাদেশ

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, বিচারের দাবিতে সহপাঠীদের মানববন্ধন

  আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি: ২৬ জুলাই ২০২৬ , ৯:৪৯:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ভাল্লুকশী গ্রামের গৃহবধূ সুমি আক্তার মীম (২২) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তার স্কুলজীবনের সহপাঠীরা।
শনিবার ভাল্লুকসী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সহপাঠীরা অভিযোগ করেন, সুমি আক্তার মীমকে যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সুমি আক্তার মীম আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ভাল্লুকশী গ্রামের আলিম হাওলাদারের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তৃতীয়। পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয় পাশের মাদারীপুর জেলার ডাসার থানার আজালিয়া গ্রামের আজিজ আকনের ছেলে ফরহাদ আকনের (৩৮) সঙ্গে।
স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরের পক্ষ থেকে তাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করা হতো। এ ঘটনায় এর আগে বরিশালের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে একটি মামলা (সি.আর. মামলা নং-১৩০/২০২৪, তারিখ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪) দায়ের করা হয়েছিল, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
পরিবারের দাবি, যৌতুক না দেওয়ায় বিয়ের পর থেকে সুমি কখনোই শান্তিতে সংসার করতে পারেননি। তার ১৭ মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
স্বজনরা জানান, গত ১৭ জুলাই ২০২৬ সুমিকে আদর করে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর গত মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে পরিবারের সদস্যরা খবর পান, তিনি অসুস্থ। খবর পেয়ে তারা মাদারীপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পর হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় ওড়না দিয়ে ঢাকা অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান। এ সময় মরদেহের পাশে পরিবারের কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি।
পরিবারের অভিযোগ, সুমির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও ফোলা দাগ ছিল, যা হত্যার আলামত বলে তারা দাবি করছেন।
এ ঘটনায় ডাসার থানায় সুমির বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর শাশুড়ি ছালেহা বেগম (৭০)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে দেবর মহিউদ্দিন আকনসহ অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
গ্রেপ্তারের পর ১৭ মাস বয়সী শিশুটি বর্তমানে তার নানীর কাছে রয়েছে।
এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে সুমি আক্তার মীমের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
ডাসার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোলায়মান মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও খবর

Sponsered content