শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন

জবির খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সংসদ নির্বাচন ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ

  জবি প্রতিনিধি ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৪:৫১:৪৪ প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সভাপতি পদপ্রার্থী ও শিক্ষানবিশ আইনজীবী মো. রাশেদুজ্জামান রাশেদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী সভাপতি প্রার্থী সামাউন সৈকত জুনিয়র শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বার্তায় রাশেদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন রাশেদপন্থী শিক্ষার্থীরা।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সামাউন সৈকতের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

রাশেদের দাবি, বেশ আগে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মো. রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, “আমি যখন নতুন ক্যাম্পাসে আসি, তখন বিভাগের কয়েকজন বড় ভাই জোর করে আমাকে বিভাগীয় ছাত্রলীগের একটি ছোট পদে বসিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৪ জুলাইয়ের পর ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ১৭ জুলাই আমি স্বেচ্ছায় ওই পদ থেকে পদত্যাগ করি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিই।”

তিনি আরও বলেন, “একই মাসের ৩০ জুলাই ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আমার ফেসবুক প্রোফাইলে লাল ব্যাজ ধারণ করি। ওই সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমার পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন।”

রাশেদ দাবি করেন, ওই সময়ের রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ডের বিষয়টি এখন নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এ ধরনের প্রচারণার বিরুদ্ধে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী অর্ণব সরকার বলেন, “রাশেদ ভাইয়ের রাজনৈতিক অবস্থান এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে তাঁর ভূমিকা আমরা জানি। অতীতে চাপিয়ে দেওয়া একটি পদকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রচারণা অনৈতিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নির্বাচন কমিশনের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।”

১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফীদ বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় রাশেদ ভাই পদত্যাগ করে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। অথচ এখন নির্বাচনের মাঠে পুরোনো ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিষয়টি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।”

প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে রাশেদের ফেসবুক প্রোফাইলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পোস্ট ও ছবি পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব পোস্ট তাঁর উল্লিখিত রাজনৈতিক অবস্থানের সব দিক স্বাধীনভাবে প্রমাণ করে কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাশেদের লিখিত অভিযোগটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বিবেচনায় রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারে বলে জানা গেছে।

আরও খবর

Sponsered content