প্রতিনিধি ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১:১৮:১২ প্রিন্ট সংস্করণ
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ/জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের চার শিক্ষার্থী।
গতকাল বুধবার প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলে তাদের সুপারিশপ্রাপ্তির বিষয়টি জানা যায়। সফল চার শিক্ষার্থী হলেন- ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মোছা. ফারজানা ফেরদৌসী, শরিফুল ইসলাম ও সুস্মিতা সরকার বৃষ্টি এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের নূরজাহান আক্তার। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের চার শিক্ষার্থীর একসঙ্গে বিজেএসে সাফল্যকে বিভাগের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাফল্যের অনুভূতি জানিয়ে সুস্মিতা সরকার বৃষ্টি বলেন, ‘নিজের পরিশ্রম ও ভাগ্যের ওপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করার পর ২০২৪ সাল থেকে পুরোদমে এর প্রস্তুতি শুরু করি। অ্যাডভোকেটশিপ সনদ লাভের পর সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে। আজকে বিশেষভাবে স্মরণ করতে হয় আমার সহপাঠী ও বিচারক আবু সাঈদ এবং সার্বক্ষণিক মানসিক সাপোর্ট দেওয়া বান্ধবী জ্যোতি, মেহেরিমা ও সুমির কথা।’
ভবিষ্যৎ বিজেএস পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষায় শুধুই মেধা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মেধার চেয়েও বেশি পরিশ্রম ও পড়ার টেবিলে নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা। নিজেকে নেতিবাচক পরিবেশ থেকে দূরে রেখে প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত সাত-আট ঘণ্টা পড়ার টেবিলে যুক্ত থাকতে হবে। নিজের ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে সিলেবাস ধরে তা পূরণ করা জরুরি।’
অন্যদিকে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মোছা. ফারজানা ফেরদৌসী বলেন, ‘এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। পথটি সহজ ছিল না। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, পরিশ্রম, অনিশ্চয়তা এবং নিজের ওপর ভরসা রাখার অনেকগুলো পরীক্ষা অতিক্রম করে আজ বিচারক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘মূলত ন্যায়পরায়ণতার প্রতি আমার সহজাত আকর্ষণ, আইন বিষয়ে গভীর আগ্রহ এবং মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচার নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আমাকে সবসময় বিচারক হওয়ার স্বপ্নের দিকে টেনে নিয়েছে।’
চার শিক্ষার্থীর সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন আইন ও বিচার বিভাগের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান নিউটন। তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের বিভাগের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও আনন্দের একটি দিন। আমাদের চার শিক্ষার্থী সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তাদের মেধা, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের এই অর্জন নিঃসন্দেহে বিভাগের জন্য মর্যাদার।’ নতুন কর্মজীবনে চার শিক্ষার্থী ন্যায়, সততা, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষা দেশের বিচার বিভাগে সহকারী জজ পদে নিয়োগের জন্য অনুষ্ঠিত একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা।





















