স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া: ১১ জুন ২০২৬ , ১০:৫৩:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ
বগুড়ায় মোটরসাইকেলে লিফট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে চেতনানাশক খাইয়ে নগদ টাকা, স্মার্টফোন ও ল্যাপটপ লুটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি গত ৩ জুন শাজাহানপুর ও শেরপুর থানা এলাকায় ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আফ্রিদি হোসেন (২৫) শেরপুর থানায় অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের দহপাড়া গ্রামের আকরাম হোসেনের ছেলে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে আফ্রিদি হোসেন বগুড়ার বনানী বাসস্ট্যান্ড থেকে সিরাজগঞ্জে তার শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। এ সময় এক অজ্ঞাত মোটরসাইকেল আরোহী তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে নেয়।
পথিমধ্যে শেরপুর উপজেলার একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার অজুহাতে মোটরসাইকেল থামানো হয়। পরে তাকে একটি দোকানের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে অপর এক সহযোগীসহ তাকে লিচু, খেজুর ও পানি খেতে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এসব খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আফ্রিদি অচেতন হয়ে যাওয়ার পর চক্রটি তার পরিবারের সদস্যদের ফোন করে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে থাকে। কখনো ধুনট মোড়, আবার কখনো মির্জাপুর বাসস্ট্যান্ডে তাকে পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়।
দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর রাত ১১টার দিকে মির্জাপুর ইউনিয়নের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কক্ষ থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন তার বন্ধু মেহেদী মারুফ। পরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শজিমেক) অথবা মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে জ্ঞান ফিরলে চিকিৎসকরা তাকে উচ্চমাত্রার চেতনানাশক জাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছিল বলে ধারণা করেন।
আফ্রিদি হোসেন জানান, জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখতে পান তার সঙ্গে থাকা একটি লেনোভো ল্যাপটপ, ভিভো এক্স-২০০ মডেলের স্মার্টফোন এবং ব্যাগে থাকা নগদ ৮০ হাজার টাকা খোয়া গেছে।
শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোসলেম উদ্দিন জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং চক্রটিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।




















