প্রতিনিধি ২৮ জুলাই ২০২৬ , ২:১৮:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ
রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় কার্যকর না করে সরকার জাতীয় অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে বলেও দাবি করেছে দলটি।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়াতনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে জাতির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো-সহস্রাধিক শহীদের আত্মত্যাগ এবং হাজারো আহত মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, দেশ সেই পথে এগোচ্ছে, নাকি আবারও পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকে ফিরে যাচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন দল রাষ্ট্র সংস্কার, সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার অঙ্গীকারও রক্ষা করা হয়নি।
তিনি বলেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার নবম দফায় রাষ্ট্রের সাংবিধানিক, সংবিধিবদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচনের পর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), মহেশখালী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, এনজিওবিষয়ক ব্যুরোসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের এই নেতা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক হিসেবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের চুক্তিতে শামসুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, অবসরের পর তিনি বিএনপির একটি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এমন একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হলে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক।
তিনি আরও বলেন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন রয়েছে। এ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিবের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভূমিকা থাকে। তাই রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে ওই পদে নিয়োগ দিলে নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হওয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হবে।
‘যিনি এতদিন বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নে সোচ্চার ছিলেন, তার অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না’, বলেন মিয়া গোলাম পারওয়ার।
জামায়াত অবিলম্বে ওই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে সতর্ক করে বলেছে, তা না হলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের বিষয়েও রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন করে ভাবতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনের পর জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় প্রশাসক ও কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সরকারের প্রতি এসব নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।





















