রাজনীতি

অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুদকের অনুসন্ধান চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  প্রতিনিধি ২৯ জুন ২০২৬ , ২:১০:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে যেসব দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। রোববার রাতে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন বলেন, যারা এখন দুর্নীতি ও বিদেশি ঋণের জবাবদিহি দাবি করছেন, তাদের উচিত এ ধরনের তদন্তকে স্বাগত জানানো। কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, কীভাবে হয়েছে এবং কারা এর জন্য দায়ী, তা দুদকের খুঁজে বের করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার সব অভিযোগেরই তদন্ত হওয়া উচিত।

বাজেট আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগে তারা আপত্তি জানিয়েছিল। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনেও জামায়াত স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল বলে উল্লেখ আছে। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মালেকের মন্ত্রিসভায় দলটির দুজন সদস্য ছিলেন। এছাড়া ১৯৭৯ সালে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির অনুমতি পাওয়ার পর জামায়াত পুনর্গঠিত হয় এবং এরশাদের আমলে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিল। ইসলামী দল হিসেবে দাবি করলেও দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে শরিয়াহ বা ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সুশাসন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আগের সময়গুলোতে অর্থপাচার ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিতে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়েছিল। তার দাবি, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে এবং মোট ২৯ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে এবং আগের সরকার ‘লুটপাটের অর্থনীতি’কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল।

ইসলামী ব্যাংকের পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি (আরডিএস) নিয়ে জামায়াতের অভিযোগের জবাবে তিনি জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে ১০ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের তার কাছে থাকা নথিপত্র সংগ্রহ করে দাবির সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান। প্রস্তাবিত বাজেটের বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই বাজেটের সুফল আগামী ছয় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান হবে এবং দেশের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।

আরও খবর

Sponsered content