প্রতিনিধি ১৫ আগস্ট ২০২৬ , ২:৪১:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ
ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনের পর আরও ৪টি উইকেট তুলে নিয়ে ঐতিহাসিক জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে আরও ২টি উইকেট নিয়েছেন হাসান মাহমুদ। দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৬১ রান। এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ৬৭ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকেরা। অস্ট্রেলিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ধরে রেখেছেন ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি।
গ্রিন ৮৬ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত আছেন। তাঁর সঙ্গে ৫০ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত ক্যারি। দিনের শেষ সেশনের মাঝামাঝি সময়ে বড় ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন স্টিভেন স্মিথ। এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ ৪২৬ রানে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মিরাজ। এতে বাংলাদেশ ২২৮ রানের বড় লিড পায়।
তৃতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নেমেই দ্রুত দুই ওপেনারকে হারায় অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদের করা দিনের তৃতীয় বলেই সাজঘরে ফেরেন জেক ওয়েদারল্ড। জায়গা না পেয়ে বলটি ব্যাটে লেগে তাঁর স্টাম্পে আঘাত করে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ সারিতে তাঁর জায়গা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এরপর একই বোলারের বলে একইভাবে আউট হন ট্রাভিস হেড। ১৭ রান করে বোল্ড হন তিনি। তবে অদ্ভুতভাবে আউট হওয়ার পরও বেলটি আবার স্টাম্পের খাঁজে বসিয়ে দেন হেড।
প্রায় দেড় ঘণ্টা উইকেটে টিকে থাকার চেষ্টা করেন মারনাস লাবুশেন। শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলামের করা একটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের বলের বিপক্ষে ব্যাট চালাতে গিয়ে আউট হন তিনি। ৫৯ বল খেলে দুটি চার মেরে ১২ রান করেন লাবুশেন। পুরো সময়টাতেই তাঁকে বেশ অস্বস্তিতে দেখিয়েছে।
ইনিংসের প্রথম বলেই লাবুশেনের বিপক্ষে জোরালো আবেদন করেছিল বাংলাদেশ। তবে বলটি লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে যাচ্ছিল। পরে তাসকিন আহমেদের বলে প্যাড দিয়ে বল ঠেকালে বাংলাদেশ আবারও আবেদন করে এবং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানায়। তবে বলটি স্টাম্পের ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছিল।
প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করা স্মিথ এবার বাংলাদেশের বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেন। কিন্তু বাংলাদেশের বোলাররা ধৈর্য ধরে নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থাকেন।
তাসকিনের একটি বল গ্রিনের ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে তাঁর লেগ স্টাম্প ছুঁয়ে যায়। কিন্তু বেল না পড়ায় অল্পের জন্য বেঁচে যান গ্রিন। ঘটনাটি দেখে হতাশ হন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা।
এরপরই আসে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি। ক্রিজের অনেক পেছন থেকে বল করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সেই বলটি ঠেকাতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে নিজের দিকেই ক্যাচ তুলে দেন স্মিথ। মিরাজ দুর্দান্তভাবে ফিরতি ক্যাচটি তালুবন্দী করেন। এরপর বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা তাঁকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন।
স্মিথের বিদায়ের সময়ও অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের চেয়ে ১০৬ রানে পিছিয়ে ছিল। তবে এরপর গ্রিন ও ক্যারি আর কোনো উইকেট না হারিয়ে দিনের খেলা শেষ করেন।
এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৪২৬ রানে। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনটিও ব্যাটিং করে কাটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। মোট ১৩৮ ওভার ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয় তারা।
বাংলাদেশের লেজের ব্যাটারদের সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজ ৫২.৩ ওভার ব্যাট করেন এবং নিজে করেন ৬৫ রান। টেস্ট শুরুর আগে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে বড় ইনিংস খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে একমাত্র মিরাজই প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে শতক করেছিলেন।
১১৭ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের দশম অর্ধশতক পূর্ণ করেন মিরাজ। প্রথম সেশনের শেষ বলগুলোর একটিতে ক্যামেরন গ্রিনকে হুক করে ছক্কাও হাঁকান তিনি।
অস্ট্রেলিয়াও নিজেদের কাজ কঠিন করে তোলে মোট পাঁচটি ক্যাচ ছেড়ে। এর মধ্যে প্রথম সেশনের শেষ দিকে প্যাট কামিন্সের এক ওভারেই দুটি ক্যাচ মিস করে তারা। তাসকিন আহমেদের বলে স্টিভেন স্মিথ গভীর স্কয়ার লেগে সহজ ক্যাচ ছাড়েন। পরের বলেই মিরাজকে ফেরানোর সুযোগ পেয়েও ক্যাচ নিতে পারেননি হেড। সেটি অবশ্য মাঝউইকেট থেকে পেছনে দৌড়ে নেওয়ার কঠিন ক্যাচ ছিল।
মাহমুদ, তাসকিন ও তাইজুলের সঙ্গে জুটি গড়ে মিরাজ মূলত স্ট্রাইক ধরে রাখার চেষ্টা করেন। তাঁর সতীর্থরাও দারুণ সহযোগিতা করেন। হাসান মাহমুদ ৯২ বল মোকাবিলা করেন। আর তাইজুল ২৩ বলে ১৭ রান করার পথে জশ হ্যাজলউডকে একটি ছক্কা হাঁকান। তাসকিনও এক ঘণ্টা ৪২ মিনিট ব্যাট করে অপরাজিত ১৪ রান করেন।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর দ্রুত মিরাজ ও এবাদত হোসেনকে আউট করে টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন জশ হ্যাজলউড। অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে টেস্টে ৩০০ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া ১৯৮ ও ৪ উইকেটে ১৬১ রান (গ্রিন অপরাজিত ৪৩, ক্যারি অপরাজিত ১৯) বাংলাদেশের ৪২৬ রানের (তানজিদ ১০১, শান্ত ৮৪, মেহেদী ৬৫, হ্যাজলউড ৬/৮৯) চেয়ে এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে।















