মো. সাকিব চৌধুরী স্টাফ রিপোর্টার ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৯:৩২:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুরের বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কমেছে। একই সঙ্গে কাঁচামরিচ ও ডিমের দামেও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তবে চাল, ডাল, আটা-ময়দা, মাছ, মাংসসহ বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রংপুর নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে প্রতিকেজি পুরাতন পেঁয়াজ ১৩০-১৪০ টাকা থেকে কমে ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ ১১০-১২০ টাকা থেকে কমে ৯০-১০০ টাকা এবং পাতা পেঁয়াজ ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়।
কামাল কাছনা কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মসুদ বলেন, “বাজারে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। সরবরাহ আরও বাড়লে সামনে দাম আরও কমতে পারে।”
খুচরা বাজারে কাঁচামরিচের দামও কমেছে। গত সপ্তাহে যেখানে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ৬০-৭০ টাকা ছিল, সেখানে এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়।
মুরগির বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রয়লার মুরগি আগের মতোই ১৫০-১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম কিছুটা বেড়ে ২৫০-২৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫০০-৫২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭২০-৭৫০ টাকা ও খাসির মাংস ১১০০ টাকা কেজি দরে অপরিবর্তিত রয়েছে।
কামাল কাছনা কাঁচাবাজারের মুরগি বিক্রেতা হৃদয় বলেন, “গত সপ্তাহের তুলনায় পাকিস্তানি সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম স্থির রয়েছে।”
সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজির দাম স্থিতিশীল। টমেটো ৭০-৮০ টাকা, গাজর ৫৫-৬০ টাকা, মুলা ২০-২৫ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি ২৫-৩০ টাকা, চালকুমড়া ৪০-৫০ টাকা, কাঁচকলা হালি ২০-২৫ টাকা, চিকন বেগুন ৩০-৪০ টাকা, গোল বেগুন ৫০-৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০-৬০ টাকা, পটোল ৬০-৭০ টাকা, বরবটি ৫০-৬০ টাকা, শিম ৪০-৬০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা, শসা ৪০-৫০ টাকা, করলা ৭০-৮০ টাকা, লাউ ৪০-৫০ টাকা, লেবু হালি ১৫-২০ টাকা, ধনেপাতা ২৫-৩০ টাকা এবং সব ধরনের শাক ১০-২০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মসলা জাতীয় পণ্যের মধ্যে দেশি আদা ১২০-১৪০ টাকা, দেশি রসুন ১০০-১২০ টাকা, আমদানি করা রসুন ২০০-২২০ টাকা এবং শুকনা মরিচ ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সিটি বাজারের সবজি বিক্রেতা হামিদ বলেন, “শীতকালীন সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় বেশিরভাগ সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।”
ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। পোলট্রি ডিমের হালি ৩৬-৩৮ টাকায় বিক্রি হলেও পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে তা ৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজারে স্বর্ণা (মোটা) ৪৮-৫০ টাকা, স্বর্ণা (চিকন) ৫৫-৬০ টাকা, বিআর-২৮ ৬৫-৭০ টাকা, বিআর-২৯ ৬০-৬৫ টাকা, জিরাশাইল ৭০-৭৫ টাকা, মিনিকেট ৮৫ টাকা এবং নাজিরশাইল ৮৫-৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আলুর বাজারে দাম কিছুটা কমেছে। কার্ডিনাল আলু ১৮-২০ টাকা, নতুন আলু ৩০-৪০ টাকা, শিল ও ঝাউ আলু ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫-২০০ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৮০-২০০ টাকা, মসুর ডাল (চিকন) ১৫০-১৬০ টাকা, মাঝারি মসুর ১০০-১১০ টাকা, মুগডাল ১৬০-১৮০ টাকা, বুটের ডাল ১২০-১৩০ টাকা, চিনি ১০০-১১০ টাকা, ছোলাবুট ১০০-১১০ টাকা, আটা ৪৫-৫৫ টাকা ও ময়দা ৬৫-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে আকারভেদে রুই ৩০০-৩৮০ টাকা, কাতলা ৩০০-৫০০ টাকা, মৃগেল ২২০-২৫০ টাকা, পাঙাশ ১৫০-২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৫০ টাকা, ট্যাংরা ৪০০-৫৬০ টাকা, শিং ৩০০-৪০০ টাকা এবং গছিমাছ ৮০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।














