সারাদেশ

রংপুরে তিস্তার ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থার দাবিতে পাউবো ঘেরাও

  প্রতিনিধি ২৬ জুলাই ২০২৬ , ৮:২৬:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ

তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বাগডহরা, নোহালী, বিনবিনা ও মটুকপুর চর এলাকার হাজার হাজার হেক্টর আবাদি জমি এবং শত শত বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

ভাঙনরোধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আজ রোববার দুপুর ১টায় রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা।

‘তিস্তা নদী পাড়ের এলাকাবাসী’ ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গঙ্গাচড়া উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে আসা দুই শতাধিক ভাঙনকবলিত মানুষ অংশ নেন। তারা প্রায় এক ঘণ্টা রংপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং দ্রুত স্থায়ী নদীশাসনের দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি ও শত শত বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে কিছু জিওব্যাগ দেওয়া হলেও তা দিয়ে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। উপরন্তু জিওব্যাগে বালু ভরাটের খরচও ভুক্তভোগীদের বহন করতে হচ্ছে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর জেলার আহ্বায়ক আল মামুন এবং খেলাফত মজলিসের গঙ্গাচড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মমিনুর ইসলামসহ ভাঙনকবলিত এলাকার ভুক্তভোগীরা।

এনসিপির রংপুর জেলার আহ্বায়ক আল মামুন বলেন, তিস্তার ভাঙনে মানুষ বারবার ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক পরিবার এখনও নতুন করে ঘর তুলতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শুধু পরিদর্শন করেন, আর সামান্য কিছু জিওব্যাগ দিয়ে দায় শেষ করেন। অথচ সেই জিওব্যাগে বালু ভরাট করতেও গরিব মানুষকে নিজের পকেটের টাকা খরচ করতে হয়। ঠিকাদার নিয়োগ করে স্থায়ীভাবে কাজ শুরু না করে এভাবে দায় এড়ানো যায় না। আমরা চাই দ্রুত বরাদ্দ দিয়ে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে কার্যকর ভাঙনরোধের কাজ শুরু হোক।

তিনি আরও বলেন, আজকের এই কর্মসূচির পরও যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা এলাকার ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, তিস্তার ভাঙনে আমার কয়েক বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন বসতভিটাও ভাঙনের মুখে। পরিবার নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। আমরা আর সাময়িক ব্যবস্থা চাই না, দ্রুত স্থায়ী নদীশাসনের মাধ্যমে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা চাই। তা না হলে আমাদের শেষ সম্বলটুকুও তিস্তা কেড়ে নেবে।

সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত জিওব্যাগ ফেলা, স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান। একই সঙ্গে দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

এ বিষয়ে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, কোথাও ভাঙন দেখা দিলে প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে কিছু সাপ্লাই বস্তা বা জিওব্যাগ দেওয়া হয়। এটি মূলত ফার্স্ট এইড বা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাশ্রমের সহযোগিতায় এসব কাজ পরিচালিত হয়।

তিনি আরও বলেন, স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজের ক্ষেত্রে কাজের গুরুত্ব নির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন, বরাদ্দ অনুমোদন এবং ঠিকাদার নিয়োগসহ কয়েকটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগে। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ভাঙনরোধের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে পর্যায়ক্রমে স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আরও খবর

Sponsered content