উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ১৩ জুন ২০২৬ , ৯:০১:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধামশ্রেণী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আয়ুব আলীর বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই করেন না তিনি। বিশেষ করে জমির নামজারি (মিউটেশন) ও খারিজ সংক্রান্ত কাজে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ফাইলপ্রতি ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সম্প্রতি ওই কর্মকর্তার ঘুষ লেনদেন ও অর্থের দরদাম সংক্রান্ত একটি গোপন ভিডিও ফুটেজ সাংবাদিকদের হাতে এসেছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ধামশ্রেণী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আসা সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আয়ুব আলী বিভিন্ন কাজের বিনিময়ে অর্থের বিষয়ে আলোচনা করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, জমির নামজারি বা খারিজের জন্য সরকারি নির্ধারিত ফি উপেক্ষা করে তিনি ফাইলপ্রতি ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা কম দিতে চাইলে কাজ বিলম্বিত হবে বলেও ইঙ্গিত দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ধামশ্রেণী ইউনিয়নের একাধিক সেবাগ্রহীতা জানান, ওই ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া সাধারণ মানুষের কাজ করা কঠিন। তাদের দাবি, অর্থ প্রদান করলে কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়, অন্যথায় বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয়।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি নামজারি বা খারিজের জন্য নির্ধারিত ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা। এ ফি অনলাইনের মাধ্যমে পরিশোধ করার বিধান রয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হওয়ার কথা।
এ বিষয়ে ধামশ্রেণী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আয়ুব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. মেহেদী হাসান বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকির হোসেন বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।




















