মাধবপুর উপজেলাজুড়ে দিনরাত অবৈধভাবে মাটি, বালু ও সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ আইন অমান্য করে পাহাড়ি ছড়া, খাল, নদী ও ফসলি জমি থেকে বেপরোয়া উত্তোলন চালাচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র।
আইনজীবী ঝন্টু দেব জানান, ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকেও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মাটি উত্তোলন আইনত দণ্ডনীয়। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রাকৃতিক টিলা ও পাহাড় নিধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে কৃষিজমির টপসয়েল কাটা ও জমির শ্রেণি পরিবর্তনও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব অপরাধে প্রথমবার দুই লাখ টাকা জরিমানা ও দুই বছরের কারাদণ্ড এবং পুনরায় অপরাধে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে বলে তিনি জানান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ছাতিয়াইন, বাঘাসুরা, নোয়াপাড়া, জগদীশপুর, বুল্লা, আন্দিউড়া, শাহজাহানপুর, ধর্মঘর, বহরা ও চৌমুহনী ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া ও ফসলি জমি থেকে ড্রেজার ও এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে মাটি ও বালু কেটে ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে পাচার করা হচ্ছে।
চৌমুহনী ইউনিয়নের আলাবক্সপুর, মঙ্গলপুর, অলিপুর, মহব্বতপুর ও হরিণখোলা এলাকায় সোনাই নদী পাড়জুড়ে অন্তত ১৫টি বিশাল বালুর স্তুপ দেখা গেছে। একইভাবে বহরা ইউনিয়নের সোনাই নদীর রাবার ড্যাম এলাকাসহ কয়েকটি স্পট থেকেও অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে বুল্লা ইউনিয়নের জনপোড়া গ্রামে কৃষিজমির টপসয়েল কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। পাশাপাশি আন্দিউড়া ও শাহজাহানপুরের সিমনা ছড়া, জগদীশপুরের রসুলপুর, নোয়াপাড়া ও বাঘাসুরার উত্তর শাহপুর ও হিরিতলা এলাকাতেও প্রতিদিন সিলিকা বালু উত্তোলন চলছে বলে স্থানীয়রা জানান।
সচেতন মহলের মতে, এভাবে অবৈধ উত্তোলনের ফলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে এবং পাহাড়ি ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়ে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের ‘ম্যানেজ’ করেই এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে—যদিও বিষয়টির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা প্রশাসন–এর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ বিন কাশেম বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেবে এবং পরিবেশ রক্ষায় কঠোর নজরদারি জোরদার করবে।




























