প্রবাসের খবর

মালয়েশিয়ায় যৌন ব্যবসার চক্র: বাংলাদেশিসহ আটক ২৬

  মালেশিয়া প্রতিনিধি: ২২ আগস্ট ২০২৬ , ৪:১৮:১২ প্রিন্ট সংস্করণ

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বিদেশি নারীদের দিয়ে পরিচালিত যৌন ব্যবসার চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। বাংলাদেশি-থাই দম্পতিসহ মোট ২৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার রাতে কুচাই লামা ও জালান গেলুগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। রাত ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া এ অভিযান পরিচালনা করে পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের সদর দপ্তরের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান শাখার কর্মকর্তারা। অভিযানের আগে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হয়।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, আটক ২৬ জনের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে রয়েছেন একজন বাংলাদেশি পুরুষ, একজন থাই নারী, একজন মালয়েশীয় পুরুষ, তিনজন মিয়ানমারের পুরুষ, তিনজন বাংলাদেশি নারী, ১৪ জন ইন্দোনেশীয় নারী, দুইজন ভিয়েতনামী নারী এবং একজন মিয়ানমারের নারী।
প্রাথমিক তদন্তে ইমিগ্রেশন বিভাগ জানতে পেরেছে, আটক বিদেশিদের কারও কাছেই মালয়েশিয়ায় অবস্থানের বৈধ ভ্রমণ নথি বা পাস ছিল না।
অভিযানে চারটি বাংলাদেশি, একটি থাই ও একটি ইন্দোনেশীয় পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। এছাড়া কয়েকটি মোবাইল ফোন, কনডম এবং কথিত ওই কর্মকাণ্ড থেকে পাওয়া ১ হাজার ২১৫ রিঙ্গিত নগদ অর্থও জব্দ করা হয়েছে।
জাকারিয়া শাবান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক দুটি স্থাপনা বিদেশি নারীদের দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিশেষ করে ক্লাং ভ্যালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে আবাসিক স্থাপনাটিতে গ্রাহক আকৃষ্ট করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, কথিত চক্রের মূলহোতারা কর্মীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং তাদের পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে রাখতেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে আবাসিক স্থাপনাটিতে গোপনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। বাণিজ্যিক স্থাপনাটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। কর্তৃপক্ষের ধারণা, তিনি সেখানে ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জানান, আবাসিক স্থাপনায় ৬০ মিনিটের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে ২০০ রিঙ্গিত নেওয়া হতো। আর বাণিজ্যিক স্থাপনায় ৯০ মিনিটের জন্য নেওয়া হতো ২৬০ থেকে ৪০০ রিঙ্গিত। তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি প্রায় দুই মাস ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
বিদেশি দম্পতি ও স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৫৬(১)(ডি) ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্য বিদেশিদের একই আইনের ৬(১)(সি) ধারায় আটক করা হয়েছে।
আটকদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। এদিকে তদন্তে সহায়তার জন্য আরও সাতজন স্থানীয় পুরুষকে ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
জাকারিয়া শাবান বলেন, দেশের আইন লঙ্ঘন করে পরিচালিত যেকোনো কর্মকাণ্ড বন্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। মালয়েশিয়ার স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

আরও খবর

Sponsered content