প্রতিনিধি ৬ অক্টোবর ২০২৬ , ৪:৪১:২০ প্রিন্ট সংস্করণ
লালমনিরহাটে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে আতিকুল ইসলাম নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষনা করেন লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আতিকুল ইসলাম লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের দাড়ারপাড় মুন্সিটারী এলাকার হাবিবুর রহমান হবিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহার ও আদালত জানায়,গত ২০২১ সালে আতিকুলের সাথে বিয়ে হয় মিতু আক্তারের। বিয়ের পরে তাদের সংসারে এক মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের মাঝে সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় অভিমান করে বাবার বাড়ি চলে যান মিতু আক্তার। পরে স্থানীয়রা আপোষ করে দিলে পুনরায় স্বামীর বাড়ি চলে আসেন মিতু আক্তার।
এর ১৫/২০ দিন পর গত ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে পুনরায় তাদের মাঝে বিবাদ লাগলে স্বামী আতিকুল লাঠি দিয়ে স্ত্রী মিতু আক্তারকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। হত্যার পর স্ত্রীর লাশ ফেলে পালিয়ে যান স্বামী। পরদিন সকালে ৫ মাস বয়সী শিশুর কান্না শুনতে পেয়ে স্থানীয়রা ঘরে ঢুকে মিতু আক্তারের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।
এ ঘটনায় নিহত মিতু আক্তারের বাবা বাদি হয়ে আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সে মামলায় গত ২০২৪ সালের ৪ জুলাই স্বামী আতিকুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত এ মামলায় ১৭ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহন করে আজ আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষনা করেন।
রায়ে বলা হয়, স্ত্রী মিতু আক্তারকে হত্যার দায়ে স্বামী আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে বলেও রায়ে উল্লেখ করেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামসুল আলম মিলন বলেন, ‘এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এই রায় অপরাধীদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’





















