সারাদেশ

প্রবাসীর স্ত্রী-মেয়ে-শাশুড়িকে মারধর, পরানো হলো জুতার মালা

  প্রতিনিধি ৬ অক্টোবর ২০২৬ , ৫:২৪:২৫ প্রিন্ট সংস্করণ

নাটোরের গুরুদাসপুরে যাদুটোনা করার অভিযোগ তুলে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী, মেয়ে ও শাশুড়িকে মারধর করে গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানো হয়েছে। এ সময় তাদের গয়না ছিনিয়ে নেওয়া এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ওই ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

গতকাল সোমবার বিকেলে পৌর সদরের চাঁচকৈড় গারিষাপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় আকবর আলীর ছেলে জিয়ারুল হক ও তার বড় ভাইয়ের জামাতা রাতুলের পরিবারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর সদরের তাড়াশিয়াপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ও সৌদি প্রবাসী পিন্টু মিয়ার মেয়ে তৃষা খাতুনের সঙ্গে প্রতিবেশী মজনু মিয়ার ছেলে রাতুল ইসলামের বিয়ের প্রস্তাব ছিল। তবে পিন্টু তার মেয়ে তৃষাকে শিকারপুর গ্রামে বিয়ে দেন। এ নিয়ে রাতুলের সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে রাতুল গারিষাপাড়া মহল্লার ইয়ারুলের মেয়ে ঐশীর সঙ্গে সম্পর্ক করে বিয়ে করেন।

বিয়ের পর ঐশী অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পরিবারের সদস্যদের ধারণা হয়, তাকে যাদুটোনা করে অসুস্থ করা হয়েছে। এ ধারণা থেকে ঘটনার দিন ইয়ারুল ও তার ভাই জিয়ারুল প্রবাসী পিন্টুর মেয়ে তৃষা খাতুন, স্ত্রী বুলবুলি খাতুন ও শাশুড়ি জুলেখা খাতুনকে বাড়ি থেকে মারধর করে ধরে নিয়ে যান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানো হয়। তাদের বিরুদ্ধে আর কোনো অভিযোগ না করার শর্তে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও নেওয়া হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা গয়নাও ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং থানায় গেলে পরিণতি ভালো হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পিন্টুর পরিবার। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তার স্ত্রী বুলবুলি খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার অভিযোগ, জিয়ারুল ও ইয়ারুলের সঙ্গে রাতুল ও তার পরিবারের সদস্যরা যোগ দিয়ে তাদের ওপর মারধর করেন এবং ঘটনাটি ভিন্নভাবে সাজানোর চেষ্টা করেন।

এর আগে স্থানীয় কবিরাজ আমিরুল ইসলামকেও জিয়ারুল ও ইয়ারুল মারধর করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক আলী, হাবিল উদ্দিনসহ কয়েকজন জানান, প্রবাসী পিন্টুর পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

অভিযুক্ত ইয়ারুল হক বলেন, তার মেয়েকে যাদুটোনা করে অসুস্থ করা হয়েছে। এ কারণে গ্রামের লোকজন তাদের ডেকে আনেন এবং জুতার মালা পরিয়ে ঘোরান। তবে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কোনো কার্পণ্য করা হবে না। তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’

আরও খবর

Sponsered content