আন্তর্জাতিক

২১ বছর ভাঙারি কুড়িয়ে জীবন চলত বৃদ্ধের, হঠাৎ পেলেন ৭৮ লাখ টাকা

  প্রতিনিধি ৬ অক্টোবর ২০২৬ , ৪:৩৮:৩৭ প্রিন্ট সংস্করণ

চীনের হুনান প্রদেশের ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ ২১ বছর ধরে ভাঙারি সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আর্থিক সংকটে থাকা সেই বৃদ্ধ হঠাৎ জানতে পারেন, তার নামে থাকা একটি পেনশন হিসাবে জমা হয়েছে ৪ লাখ ২৪ হাজার ২০৪ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭৭ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ চীনের চাংদে শহরে বসবাসকারী ওই ব্যক্তির পদবি ‘রু’। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তিনি পেনশন হিসাবের সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যাংক কার্ড পান। পরে হিসাবের ব্যালান্স পরীক্ষা করে এত বিপুল অর্থের সন্ধান পান। কয়েক দশক ধরে পেনশনের অধিকারী হলেও এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না রু।

প্রায় ৩০ বছর হুনান প্রদেশের একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দোকানে কাজ করেছিলেন তিনি। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে কর্মী পুনর্গঠনের সময় চাকরি হারান এবং কিছু ক্ষতিপূরণ পান। সেই অর্থ শেষ হয়ে গেলে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। একপর্যায়ে জীবিকা চালাতে ভাঙারি সংগ্রহ শুরু করেন এবং পরে চাংদে শহরে চলে যান।

২০২৪ সালের শীতকালে সমাজকল্যাণকর্মীরা তাকে একটি পরিত্যক্ত ভবনে বসবাস করতে দেখেন। প্রথমে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে রাজি না হলেও পরে কর্মকর্তাদের সহায়তায় সেখানে ওঠেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা জানতে পারেন, ২০১৫ সালে অবসর গ্রহণের বয়সে পৌঁছানোর পর থেকেই তিনি পেনশন পাওয়ার যোগ্য ছিলেন।

কর্মকর্তাদের হিসাবে, তার মাসিক পেনশন প্রায় ৩ হাজার ৭০০ ইউয়ান। প্রায় এক দশক ধরে এই অর্থ জমে ৪ লাখ ২০ হাজার ইউয়ানের বেশি হয়েছে।

রু ভাবতেন, পেনশন পেতে হলে তাকে আলাদাভাবে দীর্ঘমেয়াদী বিমার টাকা দিতে হবে। তবে কর্মকর্তারা জানান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ৩০ বছর চাকরির সময় তার বেতন থেকে ইতোমধ্যে বিমার অর্থ কেটে রাখা হয়েছিল। চীনের নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ বছরের বেশি সময় বিমা চাঁদা দেওয়া ব্যক্তিরা অবসরের বয়সে পেনশন পাওয়ার যোগ্য।

ব্যাংক কার্ড হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রু। এত টাকা পাওয়ার কথা কখনো ভাবেননি বলেও জানান তিনি।

আরও খবর

Sponsered content