প্রতিনিধি ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:২২:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ
মেক্সিকোয় ফুটবল মাঠে বন্দুক হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ১১ জন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ১২ জন।
আজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত রোববার গুয়ানাজুয়াতো প্রদেশের সালামানকা শহরে একটি ফুটবল ম্যাচ শেষে এ হামলার শিকার হন স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেসময় অন্তত ১০০ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। একাধিক গাড়িতে চেপে কিছু বন্দুকধারী নির্বিচারে গুলি চালায় দর্শকদের ওপর। এতেই হতাহত হয় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ। এখনও জানা যায়নি ভয়াবহ এ হামলার কারণ।
এদিকে সালামানকার মেয়র সিজার প্রিয়েতো এক বিবৃতিতে জানান, হামলার সময় স্টেডিয়ামে একটি ফুটবল ম্যাচ চলছিল। ম্যাচের শেষ পর্যায়ে এক বন্দুকধারী গ্যালারিতে প্রবেশ করে দর্শকদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১০ জনের মৃত্যু হয়। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন মারা যান।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১১ জনের মৃত্যুই নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন, আর একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আরও বলা হয়েছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত ১২ জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিবৃতিতে মেয়র সিজার প্রিয়েতো বলেন, ‘সালামানকা শহরে সম্প্রতি অপরাধমূলক তৎপরতা বেড়েছে। অপরাধী গ্যাংগুলো সরকারি কর্তৃপক্ষকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। এটি দুর্ভাগ্যজনক হলেও তারা কখনো সফল হবে না।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাউমের সহায়তা কামনা করেন।
এদিকে গুয়ানাজুয়াতো প্রদেশের স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকো বিশ্বের অন্যতম অপরাধপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। দেশটির সবচেয়ে সহিংস প্রদেশগুলোর একটি হলো গুয়ানাজুয়াতো। এখানে সান্তা রোসা দে লিমা এবং জ্যালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল নামে দুটি শক্তিশালী অপরাধী গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। এরইমধ্যে ঘটনাটি তদন্ত করতে গঠন করা হয়েছে একটি তদন্ত কমিটি।
জানা গেছে, এ ঘটনার একদিন আগেই শহরটিতে হয় একাধিক সহিংস হামলার ঘটনা, যাতে প্রাণ হারায় ৫ জন ও অপহরণের শিকার হয় ১ জন। সম্প্রতি প্রদেশটিতে বেড়েছে বিভিন্ন গ্যাং-এর প্রকোপ। হত্যাকাণ্ড, মাদক পাচারসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে এসব সংগঠন।




















