আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে উদ্বেগে পেন্টাগন

  প্রতিনিধি ৬ জুন ২০২৬ , ৩:১৮:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইসরায়েলের গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তির ঝুঁকি এতটাই বেড়েছে যে দেশটির বিরুদ্ধে পাল্টা গোয়েন্দা সতর্কতার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে জারি করা হয়েছে।

মার্কিন বার্তাসংস্থা এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে দুই বর্তমান ও এক সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি একটি নতুন মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে, যেখানে ইসরায়েলকে ‘অত্যন্ত সংকটজনক’ পর্যায়ের গোয়েন্দা হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে ইসরায়েল বিশেষভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েলের মানব গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বর্তমানে অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘটনার পরই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও সেসব ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

তবে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। ওয়াশিংটনে দেশটির দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে না ইসরায়েল। তাদের দাবি, গোয়েন্দা তৎপরতা কেবল শত্রুদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়, মিত্রদের বিরুদ্ধে নয়।

অন্যদিকে পেন্টাগন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসও সংবাদটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মিত্র দেশগুলোর মধ্যে সীমিত গোয়েন্দা তৎপরতা নতুন কিছু নয়। তবে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক সীমা অতিক্রম করেছে।

এ পরিস্থিতি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যুদ্ধবিরতির পর ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিলেও নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে পশ্চিমা সূত্রগুলোর দাবি।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সতর্কতার ফলে ইসরায়েল সফরে যাওয়া বা ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে দৈনন্দিন গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রভাব পড়েনি।

আরও খবর

Sponsered content