প্রতিনিধি ৩ আগস্ট ২০২৬ , ১:২৪:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ
ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপ জাভার উপকূলে ২৭১ আরোহী নিয়ে চলা একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং কয়েক ডজন যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। আগুনে আটকে পড়া শতাধিক যাত্রীকে উদ্ধার করতে উদ্ধারকারী দল ও আশপাশের জাহাজগুলো অভিযান চালায়। বার্তাসংস্থা এপি-র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা বাসারনাস জানিয়েছে, মুতিয়ারা সেন্টোসা-২ নামের ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসার শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। ফেরিটিতে ২৩২ জন যাত্রী, ৩৯ জন ক্রুসহ মোট ২৭১ জন আরোহী ছিলেন। এছাড়া এতে ১৮১টি যানবাহন, যার বেশিরভাগই ট্রাক, এবং একটি খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) ছিল।
রোববার সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে সুমেনেপ রিজেন্সির উপকূলীয় জলসীমায় আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর ফেরি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পিটি অ্যাটোসিম লামপুং পেলায়ারান সুরাবায়ার উদ্ধার কার্যালয়ে বিষয়টি জানায়।
বাসারনাস জানায়, ফেরির ক্যাপ্টেন প্রথমে জানান যে মাদুরা দ্বীপের উত্তর প্রান্তের কাছে জাহাজে আগুন লেগেছে। তবে পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সকাল পৌনে ১০টার দিকে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয় যে ফেরিটি বুরুয়ান সাপুদি দ্বীপের প্রায় ১৯ নটিক্যাল মাইল উত্তরে অবস্থান করছে। কাছাকাছি থাকা মেরাতুস প্রজেক্ট-৩ নামের একটি মালবাহী জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তবে দাহ্য পণ্য বহন করায় জাহাজটি নিরাপদ দূরত্বের বেশি কাছে যেতে পারেনি।
বাসারনাস প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ফেরির এক পাশ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হয়ে পুরো জাহাজে ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে লাইফ জ্যাকেট পরা আতঙ্কিত যাত্রীদের ফেরির ডেক ও ওপরের অংশে জড়ো হয়ে উদ্ধারকাজের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। কেউ কেউ প্রাণ বাঁচাতে সাগরে ঝাঁপ দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো ফেরিতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে একটি টাগবোট ও পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি জাহাজ উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত আশপাশের কয়েকটি জাহাজ ২২৭ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করেছে। এছাড়া পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও অন্তত ৩৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া যাত্রী আহমাদ আবদুল করিম জানান, ফেরির নিচের যানবাহন রাখার ডেকে থাকা একটি ট্রাক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘নিচতলা থেকে একজন এসে জানালেন আগুন লেগেছে। আমরা নিচে গিয়ে দেখি দুটি গাড়ি ইতোমধ্যে জ্বলছে। প্রবল বাতাসে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আধা ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সবাইকে ফেরির সামনের অংশে চলে যেতে বলা হয়।’
ঘটনার পর সুরাবায়া থেকে একটি উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলে পাঠানো হলেও সেখানে পৌঁছাতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লাগবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। সুমেনেপ উদ্ধারকেন্দ্র থেকে পাঠানো একটি দ্রুতগতির নৌযান উত্তাল সাগর ও বড় ঢেউয়ের কারণে মাঝপথ থেকে ফিরে আসে। উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনী একটি যুদ্ধজাহাজও মোতায়েন করেছে।
১৯৯২ সালে জাপানে নির্মিত ১৬০ মিটার দীর্ঘ এই ফেরিটি আগে “ফেরি ওসাকা” নামে জাপানের ওসাকা-শিনমোজি রুটে চলাচল করত। ২০১৫ সালে এটি ইন্দোনেশিয়ায় বিক্রি করা হয় এবং বর্তমানে সুরাবায়া-মাকাসার রুটে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করে। এই সমুদ্রপথ অতিক্রম করতে সাধারণত প্রায় ৪০ ঘণ্টা সময় লাগে।





















