প্রতিনিধি ৩ আগস্ট ২০২৬ , ১:২৪:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বকাপের মালিকানার অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে আইনি ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। তবে শেষ পর্যন্ত তীব্র বিরোধিতার মুখে পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন ইনফান্তিনো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জশ কুশনারের নেতৃত্বাধীন একটি বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর কাছে বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছিল আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা। তবে ফুটবল বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিরোধিতার পর শনিবার সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়।
এই ঘটনার পর ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারানোর কথা জানায় উয়েফা। এর আগেই সংস্থাটি ঘোষণা দিয়েছিল, পরিকল্পনা প্রত্যাহার না করা হলে তাদের ৫৫ সদস্য দেশ বিশ্বকাপ বয়কট করবে।
আরও জানা গেছে, পরিকল্পনা নিয়ে শুক্রবার ইনফান্তিনোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আইনি ব্যবস্থা, সালিসি প্রক্রিয়া কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করার কথা জানায় উয়েফা।
একই ধরনের চিঠি পাঠানো হয় জশ কুশনার, গ্রেগ ম্যাফেই, জেপি মরগান এবং ওপেন ইকোনমিকসের কাছেও। সেখানে জানানো হয়, ভেস্তে যাওয়া এই পরিকল্পনার কারণে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
ইনফান্তিনোর উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে উয়েফা জানায়, পরিকল্পনা-সংক্রান্ত সব নথি, ইলেকট্রনিক তথ্য ও যোগাযোগ অবিলম্বে সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি কোনো তথ্য নষ্ট, মুছে ফেলা, পরিবর্তন বা গোপন করা হলে সেটিকে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা হিসেবে গণ্য করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ইনফান্তিনো ছাড়াও আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার বৈশ্বিক ফুটবল উন্নয়ন প্রধান আর্সেন ভেঙ্গার, মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম এবং প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও থাকা সব নথি সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
শনিবার পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণা দিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে আরও সহায়তা করা, বিশেষ করে যেসব দেশে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন বেশি। তবে শুরু থেকেই শর্ত ছিল, অধিকাংশ সদস্য দেশের সমর্থন থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘সব মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনার পর আমরা বুঝেছি, এই প্রকল্প এমন বিভাজন তৈরি করেছে যা আমাদের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। তাই এই প্রস্তাব আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।’
তিনি আরও জানান, আগামী দিনগুলোতে সব পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে আনার চেষ্টা করবেন, যাতে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নের কাজ অব্যাহত রাখা যায়।
ইনফান্তিনোর এই সিদ্ধান্তকে বড় ধরনের নীতিগত পিছু হটা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এর মাত্র এক দিন আগেও তিনি পরিকল্পনাটি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন এবং ভুল ব্যাখ্যার জন্য গণমাধ্যমকে দায়ী করেছিলেন।
এদিকে এই ঘটনার পর তার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আগামী মার্চে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার সভাপতি নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই চিত্র বদলে যেতে পারে।
সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, অন্তত ৪৬টি সদস্য দেশ সমর্থন দিলে সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব। আর শুধু উয়েফার সদস্য দেশই রয়েছে ৫৫টি।















