আন্তর্জাতিক

সুদানে ঐতিহ্যবাহী আদালতে হামলায় নিহত ৩৫

  প্রতিনিধি ৩ আগস্ট ২০২৬ , ১২:০০:২৯ প্রিন্ট সংস্করণ

সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুরে একটি ঐতিহ্যবাহী আদালতে সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এতে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স। বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

সংগঠনটির দাবি, রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে উত্তর দারফুর রাজ্যের গারা আল-জাওয়া গ্রামে এ হামলা চালানো হয়। ওই সময় স্থানীয় বিভিন্ন বিরোধ ও মামলার শুনানিতে অংশ নিতে বহু সাধারণ মানুষ আদালতে জড়ো হয়েছিলেন।

ইমার্জেন্সি লইয়ার্স জানায়, হামলায় আদালতের ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলাকাটি বর্তমানে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানান, আদালতের কার্যক্রম একটি গাছের নিচে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল এবং সেখানে স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে চারজন উপজাতীয় নেতা এবং আরএসএফের দুইজন কমান্ডার রয়েছেন।

গারা আল-জাওয়া গ্রামটি দারফুর অঞ্চলের এল-ফাশের শহরের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে কাবকাবিয়া শহরের কাছে অবস্থিত। এল-ফাশের ছিল দারফুরে সুদানি সেনাবাহিনীর শেষ বড় ঘাঁটি, যা গত বছরের অক্টোবর মাসে রক্তক্ষয়ী অভিযানের মাধ্যমে দখলে নেয় আরএসএফ।

জাতিসংঘের তদন্তকারীরা এর আগে জানিয়েছিলেন, এল-ফাশের অবরোধ ও দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতায় গণহত্যার লক্ষণ দেখা গেছে।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং তার সাবেক মিত্র, আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর অনুগত বাহিনীর মধ্যে গৃহযুদ্ধ চলছে। এই সংঘাতে ইতোমধ্যে দশ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উভয় পক্ষই ড্রোন হামলার ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই ড্রোন হামলায় এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘ একে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

আরও খবর

Sponsered content