প্রতিনিধি ৬ আগস্ট ২০২৬ , ১১:৩২:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় বুধবার রাতভর রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় দুই ডজনের বেশি ব্যালিস্টিক ও অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, যার একটিও ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করতে পারেনি।
সাম্প্রতিক এই হামলা ইউক্রেনের শহরাঞ্চলে বেসামরিক মানুষের জন্য ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। একই সঙ্গে দেশটির হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টরের সংকটও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি আরও বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ও অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহে বিলম্ব বা অনীহাই এমন প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের অন্যতম কারণ। যারা এখনই অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিতে প্রস্তুত নয়, তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে সহায়তা করতে পারে।
পরে জেলেনস্কি জানান, তিনি ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। যেসব দেশের কাছে প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে এবং যারা ইউক্রেনকে সহায়তা করতে সক্ষম, তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির বৃহত্তম ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম রোজেটকার একটি গুদাম কমপ্লেক্সে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। প্রতিষ্ঠানের সহ-মালিক ইরিনা চেচোটকিনা বলেন, কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার জীবনের পরিশ্রম আগুনে পুড়ে যায়।
এ ছাড়া আইকিয়ার আদলে পরিচালিত খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান এপিসেন্টর জানিয়েছে, তাদের উৎপাদন অবকাঠামোয় ভয়াবহ হামলায় একজন কর্মী নিহত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, কয়েক দশকের বিনিয়োগ ও অবকাঠামো কয়েক মিনিটেই ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইউক্রেনের অন্যতম বৃহৎ খুচরা বিক্রয় গ্রুপ ফোজি জানায়, তাদের দুটি বিতরণকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ছয়জন কর্মী নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
জেলেনস্কির দাবি, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল বেসামরিক গুদাম, লজিস্টিক কেন্দ্র, রেলস্টেশন এবং অন্যান্য অবকাঠামো।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ও হামলাকারী ড্রোন ব্যবহার করে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। তাদের দাবি, লক্ষ্যবস্তু ছিল এমন পরিবহন, লজিস্টিক ও বিতরণকেন্দ্র, যেখানে অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম এবং ড্রোন সংরক্ষণ ও বিতরণ করা হতো।
ইউক্রেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকটে রয়েছে। উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে এই ব্যবস্থাকেই সবচেয়ে কার্যকর বলে বিবেচনা করা হয়।
গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে নিজস্ব প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের অনুমতি দিতে অনীহার কথা জানান, যদিও এর আগে ন্যাটো সম্মেলনের সময় তিনি এ বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
একই রাতে ইউক্রেনও রাশিয়ার তুলা অঞ্চলে অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজ-এর আরেকটি সর্টিং সেন্টারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে স্থানীয় গভর্নর জানিয়েছেন। এ ছাড়া দুটি আবাসিক ভবন ও কয়েকটি শিল্প স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির ইউরালড্রোন প্ল্যান্ট-এর প্রধান নির্বাহী ভ্লাদিমির তকাচুক গাড়ি বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়েছেন। আত্মঘাতী ইউপির ড্রোন নির্মাতা এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। ঘটনার তদন্তে হত্যাচেষ্টার মামলা করা হয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণে রাশিয়ায় অন্তত ৬১ জন নিহত এবং ৩২৭ জন আহত হয়েছেন।
এর আগে সোমবার দক্ষিণ রাশিয়ার একটি জনাকীর্ণ সমুদ্রসৈকতে ইউক্রেনীয় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত সাতজন নিহত হওয়ার দাবি করেছিল মস্কো। এর একদিন পর খেরসনে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি রুশ ড্রোন একজন সবজি বিক্রেতাকে ধাওয়া করে বিস্ফোরিত হয়। ওই ব্যক্তি আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান।





















