প্রতিনিধি ৬ আগস্ট ২০২৬ , ১০:০০:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ
ছক্কার বৃষ্টিতে ইতিহাস গড়লেন জস বাটলার। ক্যারিয়ারের মোট রানের হিসাবে কাইরন পোলার্ডকে ছাড়িয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হয়েছেন ইংল্যান্ডের এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। একই সঙ্গে তার ছয় ছক্কার ঝড়ে টানা তিন ম্যাচের হারের বৃত্ত ভেঙে বড় জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস।
পোলার্ডের ১৪ হাজার ৮০৩ রানের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান বাটলার মার্কো জানসেনকে টানা তিনটি ছক্কা মারার প্রথমটিতেই। ম্যাচ শেষে নিজের এই অর্জন নিয়ে গর্বের কথা জানান তিনি।
পরিসংখ্যানের হিসাবে দ্য হানড্রেড প্রতিযোগিতার রানও টি-টোয়েন্টি রেকর্ডের অংশ হিসেবে ধরা হয়, কারণ এই প্রতিযোগিতাটি কার্যত ২০টি পাঁচ বলের ওভারে অনুষ্ঠিত হয়।
স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাটলার বলেন, ‘টি–টোয়েন্টিতে সবার চেয়ে বেশি রান করা সত্যিই দারুণ অনুভূতির। অবশ্য একদিন কেউ না কেউ আমাকে ছাড়িয়ে যাবে, হয়তো তার নাম হবে বৈভব সূর্যবংশী। কিন্তু এই মুহূর্তটি আমার জন্য খুবই গর্বের।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ম্যাচে আমরা মুম্বাই ইন্ডিয়ানস লন্ডনের বিপক্ষে খেলেছিলাম। তখন পোলার্ড ডাগআউটে ছিলেন। তার সামনেই রেকর্ডটি ভাঙতে পারলে আরও ভালো লাগত। তালিকায় অনেক কিংবদন্তি ক্রিকেটারের নাম রয়েছে। তাদের ছাড়িয়ে যেতে পারা সত্যিই বিশেষ একটি অর্জন।’
তবে পোলার্ডের সামনে আবারও শীর্ষে ওঠার সুযোগ রয়েছে। আসন্ন ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলবেন তিনি। একই প্রতিযোগিতায় খেলবেন তালিকার চতুর্থ স্থানে থাকা অ্যালেক্স হেলসও। যদিও ধীরে ধীরে খেলোয়াড়ি জীবন গুটিয়ে কোচিংয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন পোলার্ড।
গত শীতটা মোটেই ভালো কাটেনি বাটলারের। ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আট ইনিংসে করেছিলেন মাত্র ৮৭ রান। এরপর তার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তবে নিজের হারানো ছন্দ ফিরে পেতে যে লড়াই চালিয়ে গেছেন, সেটিই তাকে নতুন করে সাফল্য এনে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
বাটলারের ভাষায়, ‘ক্রিকেট খুব দ্রুত বদলে যায়। একদিন আপনি নায়ক, পরের দিন সমালোচনার পাত্র। কয়েক মাস আগেও আমি রান পাচ্ছিলাম না। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে মনে হচ্ছে, ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ব্যাটিং করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে দুটি পথই খোলা থাকে—হয় হাল ছেড়ে দেবেন, নয়তো লড়াই চালিয়ে যাবেন। আমি দ্বিতীয় পথটাই বেছে নিয়েছি। কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস ধরে রেখেছিলাম বলেই আবার ছন্দ ফিরে পেয়েছি।’
ব্যক্তিগত কারণে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যাওয়ায় এইডেন মার্করামের অনুপস্থিতিতে বুধবার প্রথমবারের মতো ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসকে নেতৃত্ব দেন বাটলার। টিম সেইফার্টের সঙ্গে তার বিধ্বংসী জুটি শুধু দলকে জয়ই এনে দেয়নি, রানরেটও অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে পয়েন্ট তালিকার তিন নম্বরে উঠে এসেছে দলটি।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ধুঁকতে থাকে ওয়েলশ ফায়ার। ফিল সল্ট ও ম্যাট শর্ট উদ্বোধনী জুটিতে ৮৩ বলে ১২৫ রান তুললেও কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শেষ দিকে নিয়মিত উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রানে থামে তাদের ইনিংস।
ইংল্যান্ডের নতুন টেস্ট অধিনায়ক জো রুট এদিন ব্যাটিংয়ের সুযোগই পাননি। বড় শট খেলতে সক্ষম ব্যাটারদের সুযোগ দিতে তাকে নিচের দিকে নামানো হয়েছিল।
১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস। পাওয়ারপ্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে তুলে ফেলে ৫৩ রান। আইডেন মার্করামের জায়গায় ওপেন করতে নেমে পল ওয়াল্টার ও টিম সেইফার্ট দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন।
ওয়াল্টার ৩৭ রান করে ফিরলেও দল তখন জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে। এরপর ধীরে শুরু করেও দ্রুত গতি বাড়ান বাটলার। মার্কো জানসেনকে ডিপ স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে পোলার্ডকে ছাড়িয়ে ইতিহাস গড়েন তিনি। পরের দুই বলেও হাঁকান ছক্কা। এরপর আরও টানা ছক্কা মেরে মাত্র ২০ বলে পূর্ণ করেন অর্ধশতক। তার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস।





















