প্রতিনিধি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১:০১:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ
ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যে অবরোধ এবং বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা অব্যাহত থাকলেও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মার্কিন বাহিনী কাজ করছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির দাবি, কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে ইতোমধ্যে শত শত কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে তারা।
বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ‘অব্যাহত রয়েছে’। একই সঙ্গে তিনি ইরান জলপথটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য জানা যায়।
আল জাজিরা ইংলিশকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হকিন্স বলেন, মে মাসের শুরু থেকে মার্কিন বাহিনী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৯০ কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পরিবহনে সহায়তা করেছে।
তিনি জানান, হরমুজে মার্কিন বাহিনী একই সঙ্গে দুটি অভিযান পরিচালনা করছে। এর একটি হলো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সহায়তা করা এবং অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রের ভাষায় কার্যকর অবরোধ কার্যকর করা।
হকিন্সের দাবি, অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা ১০০টির বেশি জাহাজকে মার্কিন বাহিনী অন্য পথে সরিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি কয়েক সপ্তাহ আগেই প্রণালির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রধান নৌপথ থেকে মাইন অপসারণের কাজ শেষ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব নৌপথ যাতে পরিষ্কার থাকে, তা নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তার ভাষায়, ‘প্রণালি খোলা রয়েছে, নৌপথগুলোও খোলা। এ কারণেই বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সেগুলো দিয়ে চলাচল করছে।’
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি অব্যাহত রয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটির ওপর কার নিয়ন্ত্রণ বেশি, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
এদিকে ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানে বেসামরিক হতাহত ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েছেন হকিন্স। হরমুজ প্রণালির কাছে হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক শহরে চলতি মাসের শুরুতে একাধিক মার্কিন হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সূত্র ও কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব হামলার মধ্যে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানেও আঘাত হানে এবং এতে কয়েকজন নিহত ও কয়েক ডজন মানুষ আহত হন।
তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হকিন্স বলেন, মার্কিন বাহিনী সংঘাতের আইন কঠোরভাবে মেনে চলে এবং তাদের লক্ষ্য ছিল সামরিক স্থাপনা, যার মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) স্থাপনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো আমাদের অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করিনি।’
ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে হকিন্স বলেন, এতে মার্কিন বাহিনীর কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি। তার দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির নৌবাহিনীকে ‘মূলত ধ্বংস’ করে দিয়েছে।





















