প্রতিনিধি ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১১:০০:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ
ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে শনিবার রাশিয়ার ব্যাপক বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত ও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। হামলায় আবাসিক ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, শনিবার ভোর থেকে ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৫০০টি ড্রোন মোতায়েন করেছে রাশিয়া। তার দাবি, সম্মুখযুদ্ধে সাফল্য না পেয়ে রাশিয়া এখন যুদ্ধকে ইউক্রেনের অর্থনীতি ও অবকাঠামোর দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
টেলিগ্রামে জেলেনস্কি লেখেন, ইউক্রেনের মানুষকে যুদ্ধের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে এমন সব স্থাপনা ধ্বংস করাই রাশিয়ার লক্ষ্য। তার অভিযোগ, রাশিয়া ইউক্রেনের অর্থনীতি ধ্বংস করে দেশটির প্রতিরোধ ভেঙে দিতে চাইছে।
ফ্রন্টলাইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর ক্রামাতোরস্কে রুশ হামলায় তিনটি পৃথক ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। শহরটির কর্তৃপক্ষ জানায়, মাত্র ৯০ মিনিটের ব্যবধানে ব্যক্তিগত গাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে আরও চারজন আহত হন। এসব গাড়িতে কোনো সামরিক লক্ষ্য ছিল না বলেও দাবি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
কিয়েভের পশ্চিমে জিতোমির অঞ্চলের জভিয়াখেল শহরে একটি মুদি দোকানে রুশ হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ভিতালি বুনেচকো। এ ছাড়া দুটি পেট্রল স্টেশন ও বিদেশি বিনিয়োগে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে হামলার কথা জানিয়েছেন তিনি।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া ও জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহেও হামলা হয়েছে। জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানান, বিভিন্ন হামলায় দুইজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। ক্রিভি রিহে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও দুইজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শহরটির সামরিক প্রশাসনের প্রধান।
এদিকে কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরনগরী ওদেসায় রাতভর শুরু হয়ে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হামলা চলেছে। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ কিপার জানান, এসব হামলায় প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়ায় ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জাপোরিঝস্তাল, দিনিপ্রোর একটি ইস্পাত কারখানা এবং ক্রিভি রিহের কয়েকটি শিল্প স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকাতেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। সামারা অঞ্চলের তোগলিয়াত্তিতে ইউক্রেনের হামলায় একটি শিল্প কারখানায় আগুন লাগার কথা জানিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, তোগলিয়াতিকাউচুক কারখানাটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানিতে ব্যবহৃত কৃত্রিম রাবার ও জ্বালানি সংযোজনী উৎপাদন করে।
সামারা অঞ্চলের গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ ফেদোরিশচেভ শিল্প স্থাপনায় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কথা নিশ্চিত করলেও নির্দিষ্ট কোনো স্থাপনার নাম জানাননি। তোগলিয়াত্তির মেয়র ইলিয়া সুখিখ জানিয়েছেন, হামলায় কয়েকটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী মলদোভাতেও পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে। সীমান্তের কাছে একটি ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর দেশটির আকাশসীমা প্রায় এক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয় এবং সাতটি সীমান্ত পারাপার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের বন্দরগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। ওদেসায় সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য পণ্য বহনকারী একটি কার্গো জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে মস্কো। এর আগে চোরনোমর্স্ক বন্দরে দুটি কার্গো জাহাজে হামলার কথাও জানানো হয়।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনীও রাশিয়ার শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। দুই পক্ষের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।





















