আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় নিহত ১৬

  প্রতিনিধি ১৯ জুন ২০২৬ , ২:০০:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ

দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে তীব্র সংঘর্ষের খবর দিয়েছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

শুক্রবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, রাতভর দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে তারা হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার কফর তেবনিত এলাকার কাছে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত হন। এছাড়া জাবাদিন এলাকায় পৃথক আরেকটি হামলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।

হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে আরও গভীরে প্রবেশের উদ্দেশ্যে চালানো চার দিনের ইসরায়েলি সামরিক অভিযান তারা প্রতিহত করেছে। সংগঠনটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ড্রোন, রকেট ও কামানের গোলা ব্যবহার করে তারা ইসরায়েলি সেনা ও ট্যাংককে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং কফর তেবনিতের দিকে অগ্রযাত্রা ঠেকিয়ে দিয়েছে।

দক্ষিণ লেবাননের এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান নিয়ে চলমান আলোচনাতেও প্রভাব ফেলেছে বলে জানা গেছে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য দুই দেশের বৈঠক স্থগিত হয়েছে। তেহরান তাদের প্রতিনিধিদল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সব ফ্রন্টে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রত্যাশা করে, যার মধ্যে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘর্ষও অন্তর্ভুক্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, মধ্যপ্রাচ্যের সব পক্ষকে চলমান আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক মানচিত্রে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ভেতরে তাদের বর্তমান অবস্থান দেখিয়েছে। মানচিত্র অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত অবস্থান করছে।

সামুদ্রিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবস্থান যদি স্থায়ী দখলে পরিণত হয়, তাহলে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া লেবানন-ইসরায়েল সামুদ্রিক সীমান্ত চুক্তি লঙ্ঘিত হতে পারে। বিতর্কিত এই এলাকায় লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ কানা গ্যাসক্ষেত্রও রয়েছে, যার অনুসন্ধান অধিকার ওই চুক্তির আওতায় লেবাননের জন্য নিশ্চিত করা হয়েছিল।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজ দেশেও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির নেতা মোশে সাদা বলেছেন, লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে লেবানন থেকে সরে আসা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হবে। আমাদের দায়িত্ব হলো সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে লেবাননের সর্বত্র হামলা চালানো।’

বৈরুত থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বড় ধরনের বোমা হামলার সংখ্যা কিছুটা কমলেও ইসরায়েলি ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং এতে হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ফলে হিজবুল্লাহ নিজেদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী মনে করছে। সংগঠনটি একতরফা যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে রাজি নয় বলে বার্তা দিচ্ছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও স্বীকার করেছে যে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর দুটি হামলায় তাদের এক সেনা নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।

একই সময়ে হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ লেবাননের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং আলা হাসান হামিয়েহ ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সদস্যদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, এসব ব্যক্তি লেবাননের শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছেন এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ বিলম্বিত করছেন। এছাড়া লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ওমানে হিজবুল্লাহর পক্ষে অর্থ সংগ্রহ ও ছদ্মবেশী ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৯১২ জন নিহত, ১১ হাজার ৮৭৩ জন আহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

আরও খবর

Sponsered content