সিলেট প্রতিনিধি ১৩ আগস্ট ২০২৬ , ১২:৩৪:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেট নগরীর রায়নগর এলাকায় বাড়ির মালিক দম্পতি ও তাদের গৃহকর্মীকে হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে রায়নগর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
নিহতরা হলেন রায়নগরের মিতালী ১১১ নম্বর বাসার মালিক আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং তাদের গৃহকর্মী তাহমিনা (১৮)।
সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, হত্যাকাণ্ডের পর সন্দেহভাজন হিসেবে বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়। তিনি ওই বাসায় রংমিস্ত্রির কাজ করতেন। পাশাপাশি কসাইয়ের কাজও করতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল জানিয়েছেন, ওই বাড়িতে কাজ করার সুবাদে গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাবুল ওই বাসায় প্রবেশ করেন। তাহমিনা তাকে দরজা খুলে ভেতরে নিয়ে যান। পরে তারা একটি কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন।
পুলিশ কমিশনার বলেন, শব্দ শুনে সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তাদের চিৎকার শুনে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে বাবুল বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে পাশের একটি ঝোপে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এর আগে বুধবার সকালে রায়নগরের মিতালী ১১১ নম্বর বাসা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট মহানগর পুলিশ।
নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ছিলেন। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি রায়নগরের নিজ বাসায় বসবাস করতেন। তাদের চার সন্তানের মধ্যে দুজন লন্ডন ও দুজন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন।





















