অপরাধ

অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর প্রলোভনে প্রতারণা, তাঁতী লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৬

  উপজেলা প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৯:৫৩:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ

অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে যুবকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে তাঁতী লীগ নেতা সাহাবুল ইসলাম সাবুলসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে দুটি পাসপোর্ট, অস্ট্রেলিয়ার ভিসার দুটি আবেদন ও কয়েকটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের খোলাহাটি মুক্তা হিমাগার এলাকায় একটি মাইক্রোবাসে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিতাই কাছারীপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে সাহাবুল ইসলাম সাবুল (২৪), নীলফামারী সদরের বাটুলটারী গ্রামের মোখলেচার রহমানের ছেলে সাজু মিয়া (২৮), মেচকার আলীর ছেলে আজিনুর ইসলাম (২৪), এমলাক হোসেনের ছেলে ইলিয়াছ মিয়া (২৪), মাইক্রোবাসের চালক সজিব মিয়া (২৬) ও হেল্পার সাফিউল ইসলাম (২৮)।

শনিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ওসি আব্দুল গফুর বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া ভিসার মাধ্যমে প্রতারণা করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, কয়েকজন ভিসা প্রতারক যশোর থেকে ফিরছেন। পরে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে তাঁদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি আটক করে। এ সময় সাহাবুলসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, তাঁদের কাছ থেকে দুটি পাসপোর্ট, অস্ট্রেলিয়ার ভিসার দুটি আবেদন ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। মোবাইল ফোনে বিপুলসংখ্যক ভুয়া ভিসার কপি পাওয়া গেছে। এছাড়া অনলাইনে জুয়া খেলার আলামতও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের তথ্য ও স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাহাবুল দীর্ঘদিন ধরে থাই লটারিতে বিজয়ী করে দেওয়া এবং অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ভিসা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রবাসী ও দেশের বিভিন্ন জেলার যুবকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও ভিসা ও থাই লটারি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মামলা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি সাহাবুলকে থাই লটারি ও ভিসা প্রতারণার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও চক্রটির নেতৃত্ব দিয়ে প্রতারণার কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন ও অনলাইন জুয়া আইনে পৃথক দুটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল গফুর জানান, মামলা দায়েরের পর সাহাবুলসহ ছয়জনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।

আরও খবর

Sponsered content