প্রতিনিধি ১১ আগস্ট ২০২৬ , ২:৩৮:১০ প্রিন্ট সংস্করণ
অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। একই সঙ্গে আরও হাজার হাজার মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসনের সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।
সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত এক তথ্যবিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতায় উসকানি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি—এসব কারণে বেশির ভাগ ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী ব্যাপক অভিযান শুরু করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর অংশ হিসেবে বৈধ ভিসাধারীসহ বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ধারাবাহিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ভিসা বাতিলের সংখ্যাও বেড়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ভিসাধারীরা ভিসার শর্ত মেনে চলছেন কি না এবং তাঁদের কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য কোনো ধরনের হুমকি তৈরি করছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ। এ ছাড়া ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন, অপহরণ ও মানব পাচার এবং শিশুদের যৌন নিপীড়নের উপকরণ রাখার মতো গুরুতর অভিযোগেও কয়েকজনের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়া ১০০টির বেশি দম্পতির ভিসা বাতিল করেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব দম্পতি সন্তান জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত বছর রক্ষণশীল অধিকারকর্মী চার্লি কার্ক হত্যার ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা কিছু বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের কর্মকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত থাকবে। দপ্তরের ভাষ্য, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা একটি সুযোগ, অধিকার নয়।’ এই সুযোগের অপব্যবহারকারীদের ভিসা বাতিল করতে বিদ্যমান সব ধরনের ক্ষমতা ব্যবহার করা হবে।
এর আগে গত জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, তারা ১ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। সে সময় এটিকে রেকর্ডসংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এদিকে, ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই আরও জোরদার করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাইয়ের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে।
তবে অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে এবং অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত নজরদারির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা





















