বিশেষ প্রতিনিধি ১৩ আগস্ট ২০২৬ , ১২:৫১:২১ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর বনানী ও গুলশানের অভিজাত এলাকার তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করে ‘আরাভ’ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইয়াবাসহ মাদক কারবার পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। ধনী পরিবারের সন্তানদের সঙ্গে কৌশলে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে তাদের মাদকে আসক্ত করার পাশাপাশি বাকি টাকার জের ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘আরাভের’ বাড়ি ধানমন্ডি এলাকায়। তবে বনানী ও গুলশানকে কেন্দ্র করে তিনি মাদকের কারবার পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে মোহাম্মদপুরের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মাদক কারবারিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। সেখান থেকে মাদক এনে অভিজাত এলাকার বিভিন্ন গ্রাহকের কাছে সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, শুরুতে ধনী পরিবারের তরুণ-তরুণীদের বাকিতে ইয়াবা সরবরাহ করা হতো। একপর্যায়ে তারা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়লে বকেয়া অর্থের পরিমাণ বাড়তে থাকে। পরে বকেয়া টাকা আদায়ে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করা হয়। টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও স্বর্ণালংকারের মতো মূল্যবান সামগ্রী জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
‘আরাভের’ বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব মামলায় জামিনে বেরিয়ে এসে তিনি আবারও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ গত জুন মাসে বনানীর সৈনিক ক্লাব ট্রাফিক বক্সের সামনে রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচলের সময় তাকে ধাওয়া করে আটক করেন ট্রাফিক পুলিশের দুই সার্জেন্ট। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ইয়াবা ও হেরোইন উদ্ধারের দাবি করা হয়।
পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ট্রাফিক সার্জেন্টরা তাকে বনানী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। তবে এরপর অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগটি স্বাধীনভাবে যাচাই করাও সম্ভব হয়নি।
এদিকে বনানী ও গুলশানের মতো অভিজাত এলাকায় মাদকের বিস্তার ঠেকাতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক ও এর পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।





















