আন্তর্জাতিক

ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে ট্রাম্পের মন্তব্যে আলোড়ন

  প্রতিনিধি ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১০:২১:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফরের প্রথম দিনেই তার একটি মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা। আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডকে একত্র করে একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড দেখতে চান বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য দ্রুত আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না, নাকি সাংবাদিকদের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দিতে গিয়ে করা মন্তব্য তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে উত্তর আয়ারল্যান্ডবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মিক মুলভানি বলেন, প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। তার ভাষায়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয় এবং ওয়াশিংটন এখনো ‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’র প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ব্রেন্ডান বয়েলও একই মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ওই চুক্তির প্রতি দুই দলেরই সমর্থন রয়েছে এবং তা পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই।

তবে ট্রাম্প শুধু সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবেই নয়, পরে ডাবলিনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে দেওয়া বক্তব্যেও ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের প্রসঙ্গ তোলেন। ফলে তার মন্তব্যটি নিছক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, নাকি এর পেছনে রাজনৈতিক হিসাব রয়েছে তা নিয়ে আলোচনা আরও বাড়ে।

ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে দেওয়া ওই বক্তৃতায় ট্রাম্প আয়ারল্যান্ড-সংক্রান্ত বিষয়ের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও দীর্ঘ বক্তব্য দেন। অবৈধ অভিবাসন ঠেকানো, বিভিন্ন চুক্তি করা এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানোর মতো বিষয়কে নিজের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে ইরানে তাঁর সামরিক অভিযানে যুক্তরাজ্যের সমর্থনের ঘাটতি নিয়েও সমালোচনা করেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যের সময় ও ধরন নিয়েও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে। রিপাবলিকান পার্টি ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির কারণে চাপে রয়েছে এবং কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-দশমাংশ নিজেদের আইরিশ বংশোদ্ভূত বলে দাবি করেন। তবে তারা কোনো একক রাজনৈতিক গোষ্ঠী নন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক আইরিশ-আমেরিকান ভোটার রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট দুই দলের মধ্যেই অবস্থান বদলেছেন। তাদের একটি অংশ ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে।

১৯৯০-এর দশকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন আইরিশ-আমেরিকানদের সমর্থন পেয়েছিলেন উত্তর আয়ারল্যান্ডের শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তিনি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করেন, যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তির ভিত্তি তৈরি হয়।

তবে বর্তমানের আইরিশ-আমেরিকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশ আগের তুলনায় অনেকটাই বদলে গেছে। রাজনৈতিক মেরুকরণও তীব্র হয়েছে। ফলে ট্রাম্পের ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের মন্তব্যকে শুধু কূটনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখা হবে, নাকি এর পেছনে আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের কোনো হিসাব রয়েছে সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।

আরও খবর

Sponsered content