আইন-আদালত

তামিম হত্যা মামলায় সড়ক মন্ত্রী রবিউল আলমসহ ৯ জনকে অব্যাহতি

  প্রতিনিধি ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৬:৩৩:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার মহানগর আবাসিক এলাকায় দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম হত্যা মামলায় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ ৯ জনকে অব্যাহতি আদেশের বিরুদ্ধে বাদীর রিভিশন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ রোববার ঢাকার তেরতম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

ওই আদালতের বিচারক জাহিদুল ইসলাম শুনানি শেষে আগামী ৫ অক্টোবর আদেশের জন্য দিন ঠিক করেছেন। ওই দিন আদেশের মাধ্যমে জানা যাবে, মামলাটি অধিকতর তদন্তে যাবে কিনা।

২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর হাতিরঝিল থানার মহানগর আবাসিক এলাকায় নিজেদের বাসায় আক্রমণের শিকার হন তামিম। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পরদিন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ হাতিরঝিল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ডেভেলপার কোম্পানি প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজের এমডি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম রবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মামুনসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অচেনা ১১-১২ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার দিনই ডিএমপির তরফে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়েছিল, শেখ রবিউল আলম রবির প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজ নিহত তামিমের বাবার জমিতে চুক্তির ভিত্তিতে একটি ভবন তৈরি করে। সেই ভবনের ফ্ল্যাট ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ডেভেলপার কোম্পানির প্রতিনিধি, মামুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তামিমকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মামুনের শ্বশুর ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাট প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজের কাছ থেকে কিনেছিলেন, যেটি নিহতের বাবার বলে পরিবারটি দাবি করে আসছে। এ নিয়েই তিন বছর ধরে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

ঢাকা মহানগর উত্তর পিবিআইয় পুলিশের এসআই জাকারিয়া আলম তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর আদালতে ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট এবং এক কিশোরের বিরুদ্ধে দোষীপত্র দাখিল করেন।

একই সঙ্গে রবিউল আলমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায়’ তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ৮ জানুয়ারি অধিকতর তদন্ত চেয়ে নারাজির আবেদন করেন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ। কিন্তু ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ গত ৩ মার্চ বাদীর নারাজি আবেদন নামঞ্জুর করে মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন। রবিউল আলমসহ ৯ জনকে অব্যাহতি প্রদান করেন। ওই আদেশ বাতিল ও অধিকতর তদন্ত চেয়ে রিভিশন আবেদন করেন বাদী সুলতান আহমেদ। যার শুনানি রোববার অনুষ্ঠিত হয়।

এ মামলায় চার্জশিট হওয়া আসামিরা হলেন— প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজের লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা আব্দুল লতিফ, সিইও ফাইজুল আহম্মেদ প্রকাশ সুমন, মামুনুর রশীদ মামুন, কোরবান আলী, এস এম ইব্রাহিম হোসাইন, বাধন, গাজী জাকির হোসেন, রাসেল, মনির হোসেন, শাহরাজ উদ্দিন, আমিরুল ইসলাম ওরফে আমির, সুমন মল্লিক, মাহফুজার রহমান।

অব্যাহতি পাওয়া অপর আসামিরা হলেন—মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মামুন, ফজলুর রহমান, আরিয়ান, নাসরিন আক্তার, রাসেল, মাহফুজুর রহমান, মোজাম্মেল হক কবির ও ইমাম হোসেন।

আরও খবর

Sponsered content