আইন-আদালত

গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলের মামলায় ২৪ জন ১০ দিনের রিমান্ডে

  প্রতিনিধি ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৭:৩৯:১২ প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর গুলশানে সরকারবিরোধী মিছিলে মামলায় গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মীর ১০ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এ ছাড়া আরাফাত নামের একজনকে শিশু দাবি করায় তার বিষয়ে শুনানি স্থগিত রেখে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক এ আদেশ দিয়েছেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন আ.রহিম, জাহাঙ্গীর হোসেন, আলমগীর হোসেন, সাব্বির হোসেন, কামরুল হাসান (আলম), মুন্না মিয়া, সামিন ইয়াছির (সাদাফ), রাতুল, এইচ এম জাকারিয়া রহমান ওমান, মিনহাজুল ইসলাম ফাহাদ, সোহেল আহম্মেদ, সোহরাব, হযরত আলী, আজহারুল ইসলাম মাসুদ, চাঁন মিয়া, হাবিব সিকদার, জহির হোসেন, মেহেদী হাসান, কবির ভান্ডারী, বাবুল গোপ, ফরিদ আহমেদ, ইন্দ্রনীল দেব শর্মা, নজরুল ইসলাম ও মাসুদ হাসান শামীম।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন আসামিদের ১০ দিন করেই রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, ষড়যন্ত্রকারী ও অর্থের যোগানদাতা সম্পর্কে তথ্য জানতে, জড়িত অপরাপর আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মুল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিদের ১০ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া প্রয়োজন।

শুনানিকালে আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিন চেয়ে শুনানি করেন। আসামি আরাফাতকে শিশু হিসেবে দাবি করেন আইনজীবী। পরে আদালত ২৪ আসামির ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে আরাফাতকে শিশু হিসেবে দাবি করায় রোববার কাগজপত্র জমা ও অধিকতর শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়, গুলশান থানা এলাকায় গতকাল শুক্রবার বেলা পৌঁনে ১২টায় নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করাসহ সরকারবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার লক্ষ্যে কার্যক্রম স্থগিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিতছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমবেত হন। তারা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান প্রদান ও বিশৃঙ্খলা করার লক্ষ্যে সমাবেশের আয়োজন করেন। এ সময় তারা ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।

অজ্ঞাতনামা আসামিরা নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সদস্য হয়ে নিষিদ্ধ সত্ত্বাকে সমর্থন করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগণের জানমালের ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে তথা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান প্রদান ও বিশৃঙ্খলা করার লক্ষ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান৷ পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পুলিশের উদ্দেশ্যে ককটেল নিক্ষেপ করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়লে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। এসময় পাঁচটি ককটেল জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় গুলশান থানার এস মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। এতে ১১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮০/১০০ জনকে আসামি করা হয়।

 

আরও খবর

Sponsered content