ধর্ম

ইজতেমা মাঠে সাদপন্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধসহ ৫ দাবি

  প্রতিনিধি ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৭:৪৪:১৯ প্রিন্ট সংস্করণ

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, পূর্ববর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল এবং সাদপন্থীদের ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখাসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছে ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ।

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ’ আয়োজিত সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলা থেকে ওলামায়ে-মাশায়েখ, বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার শীর্ষস্থানীয় আলেম, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতা, তাবলিগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে দায়ের করা জিআর মামলাগুলোতে দ্রুত চার্জশিট প্রদান ও বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়। ২০২৫ সালের ইজতেমার আগে নেওয়া পূর্ববর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে হবে। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত বছরের টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমা সর্বশেষ ইজতেমা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছিল। এরপর টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে সাদপন্থীদের কোনো বিশ্ব ইজতেমা বা তাবলিগের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত ছিল, তা বহাল রাখতে হবে। ২০১৮ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীদের প্রবেশ স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

সম্মেলনে বক্তারা আরো অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে বিপুলসংখ্যক সাদপন্থী টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ করে ঘুমন্ত ও নামাজরত তাবলিগের সাথীদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখা প্রয়োজন।

সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কেউ টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে প্রবেশের চেষ্টা করলে কিংবা প্রবেশের জন্য কোনো প্ররোচনা বা নির্দেশনা দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখদের পরামর্শের ভিত্তিতে দাওয়াত ও তাবলিগের চলমান সমস্যাগুলোর সঠিক নিরূপণ ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়ারও দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।

সম্মেলনে ওলামা-মাশায়েখরা বলেছেন, দাওয়াত ও তাবলিগ একটি দ্বীনি মেহনত। এ সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে আলেমদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

ওলামারা বলেন, দেশের লক্ষ লক্ষ ওলামা-মাশায়েখ, ছাত্র-জনতা ও তাবলিগের সাথীদের মতামতকে বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পূর্ববর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা দেশের বৃহত্তর আলেম সমাজ ও তাবলিগের সাথীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন— মধুপুরের পীর আল্লামা আব্দুল হামিদ, আল্লামা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা শায়খ সাজিদুর রহমান, মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন হাটহাজারী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ ফরিদাবাদ, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা আব্দুল আউয়াল , মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মাওলানা ইকরাম হুসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা শাব্বির আহমদ রশীদ, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা খুবাইব বিন তৈয়ব জিরি, মাওলানা ফয়জুল্লাহ, মাওলানা আনোয়ারুল করীম প্রমুখ।

সম্মেলনে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মাওলানা নাজমুল হোসাইন কাসেমী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মুফতি কেফায়েত উল্লাহ আজহারী ও মাওলানা লোকমান মাজহারী। সম্মেলনের শেষে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও দ্বীনের সঠিক মেহনতের জন্য দোয়া করা হয়।

আরও খবর

Sponsered content