প্রতিনিধি ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২:৪৭:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ
দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ বা কলহ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। অনেক সময় পারিবারিকভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেও পরিস্থিতির উন্নতি হয় না। এমন অবস্থায় ইসলাম বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ রাখলেও, সম্ভব হলে সংসার টিকিয়ে রাখার এবং বিরোধ মীমাংসার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
পবিত্র কোরআনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে সালিস নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, তাদের মধ্যে বিরোধের আশঙ্কা হলে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করতে। উভয়ে যদি মীমাংসার চেষ্টা করেন, তাহলে আল্লাহ তাদের মধ্যে সমঝোতার পথ তৈরি করে দেবেন। (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩৫)
অর্থাৎ বিচ্ছেদে যাওয়ার আগে পারিবারিকভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করাকে ইসলাম গুরুত্ব দিয়েছে।
মনে মনে তালাক বললে কি তালাক হয়ে যায়?
তালাকের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু মনে মনে কোনো কথা চিন্তা করা আর সেটি বাস্তবে উচ্চারণ বা প্রকাশ করা এক বিষয় নয়।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, স্বামী যদি মুখে তালাকের কোনো শব্দ উচ্চারণ না করেন এবং শুধু মনে মনে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার কথা ভাবেন, তাহলে সাধারণভাবে শুধু সেই চিন্তার কারণে তালাক কার্যকর হয় না।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষের অন্তরে যে ধরনের কুমন্ত্রণা বা চিন্তা সৃষ্টি হয়, তা ক্ষমা করা হয়েছে যতক্ষণ না ব্যক্তি তা কাজে পরিণত করে অথবা মুখে প্রকাশ করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৫২৮)
এ কারণে কারও মনে বারবার ‘আমি তোমাকে তালাক দিলাম’ ধরনের চিন্তা আসা, কিংবা মনে মনে তালাকের বাক্য আওড়ানো এসবের কারণে নিজে থেকেই বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায় না।
ফকিহ ইবনে আবেদীন (রহ.)-এর আলোচনাতেও এ বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি তালাক দেওয়ার নিয়ত করলেও যদি তালাকের স্পষ্ট বা ইঙ্গিতপূর্ণ কোনো শব্দ উচ্চারণ না করেন, তাহলে শুধু নিয়তের মাধ্যমে তালাক সংঘটিত হয় না।
দাম্পত্য জীবনে বিরোধ হলে কী করা উচিত?
ইসলামে তালাক বৈধ হলেও অকারণে বিচ্ছেদের দিকে এগিয়ে যাওয়াকে উৎসাহিত করা হয়নি। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমস্যা তৈরি হলে প্রথমে পারস্পরিক আলোচনা, পরিবারের সহযোগিতা এবং মীমাংসার চেষ্টা করা উচিত। তাই রাগের মুহূর্তে তালাকের চিন্তা মাথায় এলে বা বারবার এমন চিন্তা আসতে থাকলে আতঙ্কিত না হয়ে নিজেকে শান্ত রাখা এবং নির্ভরযোগ্য আলেমের কাছ থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী শরিয়তসম্মত পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচতে যে দোয়া পড়বেন
মনের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত কুমন্ত্রণা বা ওয়াসওয়াসা সৃষ্টি হলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে রয়েছে,
رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُونِ
উচ্চারণ: রাব্বি আউযু বিকা মিন হামাযাতিশ-শায়াতিন, ওয়া আউযু বিকা রাব্বি আইয়্যাহদুরুন।
অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার আশ্রয় চাই। হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই, যাতে তারা আমার কাছে উপস্থিত না হয়।’ (সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত: ৯৭-৯৮)
তবে তালাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাস্তব কোনো শব্দ উচ্চারণ, লিখিত ঘোষণা বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতি থাকলে বিষয়টি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই এমন ক্ষেত্রে স্থানীয় যোগ্য আলেম বা মুফতির কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলা সবচেয়ে নিরাপদ।















