প্রতিনিধি ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১:১৭:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ
বড় শহর নয়, একটি মানবিক ও পরিবেশবান্ধব নগরব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
গতকাল সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল আরবান ফোরাম-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে মাহ্দী আমিন এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা এমন এক নগরব্যবস্থা চাই, যা মানুষের জীবনে সত্যিকারের গুণগত ও দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এমন এক শহর চাই- নাগরিকরা যেখানে নিরাপদে বসবাস করবেন, আত্মমর্যাদা নিয়ে চলাফেরা করবেন এবং সব ধরনের মৌলিক সেবা ও নাগরিক অধিকার সমানভাবে উপভোগ করবেন।
শহরগুলোই মূলত জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ নগর এলাকায় বসবাস করলেও এখান থেকেই জাতীয় জিডিপির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্জিত হয়। তবে অত্যন্ত দ্রুতগতির অনাকাঙ্ক্ষিত নগরায়ন আজ আবাসন, গণপরিবহন, পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক পরিবেশের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, নগরের টেকসই উন্নয়নকে কতগুলো বড় বড় অট্টালিকা বা কত কিলোমিটার চওড়া রাস্তা তৈরি হলো তা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। বরং এই নগরায়নের ফলে কতজন মানুষের জীবনের মান সত্যি সত্যি উন্নত হলো এবং সেই পরিবর্তন কতটা অর্থবহ ও স্থায়ী হলো, সেটিই হওয়া উচিত সাফল্যের আসল মাপকাঠি।
মাহ্দী আমিন আরও উল্লেখ করেন, নগর নীতিমালার সফল বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকার, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বেসরকারি খাত, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মাঝে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। কারণ নগরের সমস্যাগুলো কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক প্রশাসনিক সীমানা মানে না, কিংবা কেবল একটি নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একক দায়িত্বের মধ্যেও সীমাবদ্ধ থাকে না। মূলত আবাসন, যোগাযোগ, ড্রেনেজ, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা-এই সবকিছুর সমন্বয়েই একটি সামগ্রিক ও টেকসই নাগরিক অভিজ্ঞতার জন্ম হয়।
নাগরিক সমস্যা নিরসনে একটি সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, নগরের জটিল সংকটগুলো সমাধানে সরকার ‘৩৬০ ডিগ্রি হলিস্টিক অ্যাপ্রোচ’ গ্রহণ করতে চায়।
নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও নিজস্ব সম্পদের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা কোনো বিশেষ শ্রেণির জন্য নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী শিক্ষা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, আধুনিক গণপরিবহন ও সম্মানজনক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। এসব নাগরিক সুবিধা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার।
নতুন নগর পরিকল্পনাকে অর্থনৈতিক সুযোগের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তুলে ধরে মাহ্দী আমিন জানান, শহরগুলোতে উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা তৈরি ও নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে তরুণদের মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।
এর পাশাপাশি তিনি মূল শহরের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর যোগাযোগ বাড়াতে দায়িত্বশীল বেসরকারি বিনিয়োগ, স্থানীয় রাজস্ব বৃদ্ধি এবং কার্যকর ‘পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ’ জোরদারের প্রতিও আহ্বান জানান।
নাগরিক সেবার মান বাড়াতে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, প্রযুক্তি কেবল একটি মাধ্যম, মূল লক্ষ্য হলো মানুষের জীবনের উন্নয়ন। তাই একটি প্রযুক্তিভিত্তিক শহর গড়ার আগে সেটি প্রকৃত অর্থেই ‘মানবিক’ কি না তা নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ, ইউএনডিপি ও যুক্তরাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ফোরামে আরও বক্তব্য দেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি আবাসিক প্রতিনিধি সোনালী দয়ারত্নে প্রমুখ।















