মুজাহিদ হোসেন, নওগাঁ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৬:৪৬:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁর মহাদেবপুরে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে জনি আক্তার (২৯) নামে এক নারীকে আটক করে মুচলেকায় ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়ার লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও লিখিত আপসনামা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভীমপুর গ্রামের ১৩ জনের কাছ থেকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে জনি আক্তারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদের কাছ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৮০০ টাকা নেওয়া হলেও কার্ড করে দিতে পারেননি তিনি। পরে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
গত ১৬ আগস্ট ভুক্তভোগীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেওয়া হলেও বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান জনি আক্তার। পরে ২০ আগস্ট দুপুরে ভুক্তভোগীরা তার বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত চান। এ সময় তাদের মধ্যে তিনজনকে কথিত প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিলে জনি আক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে টাকা ফেরত দেবেন না বলে জানান এবং তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেন। পরে তহমিনা ও রেনুকা নামে দুই ভুক্তভোগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহাদেবপুর থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে জনি আক্তারকে আটক করে মহাদেবপুর থানা পুলিশ। পরে থানায় ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলোচনার পর আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ বিষয়ে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে লিখিত আপসনামায় স্বাক্ষর করার পর তাকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে লিখিত আপসনামায় জনি আক্তার বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ৭৬ হাজার ৪০০ টাকা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দিলে ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবেন বলেও এতে উল্লেখ রয়েছে।
জনি আক্তার উপজেলার ভীমপুর উত্তরপাড়া গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জনি আক্তার বলেন, তিনি কারও কাছ থেকে টাকা নেননি। তার দেবরের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে কয়েকজন নারীকে দিয়ে চক্রান্ত করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার পর সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য প্রতিবেদককে ফোন করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে জনি আক্তানের বিরুদ্ধে। এ সময় তিনি নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও উল্লেখ করেন।
মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, ‘আটকের পর ভুক্তভোগীদের সঙ্গে বসে জনি আক্তার আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে লিখিত আপসনামায় স্বাক্ষর করার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’





















