মাধবপুর (হবিগঞ্জ) | নিজস্ব প্রতিবেদক ২৯ জুলাই ২০২৫ , ১১:০৯:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জের মাধবপুরে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর কচুরিপানার নিচ থেকে গৃহবধূ মোছাঃ মাইশা আক্তার (১৬)–এর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আলোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ও স্বামী মোঃ সোহাগ মিয়া রমজান (২৭)–কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প এবং র্যাব-১০, কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা এর যৌথ অভিযানিক দল সোমবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন ঝিলমিল ঢাকা পাম্পের সামনে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় পলাতক আসামি সোহাগকে গ্রেপ্তার করে।
সে মাধবপুর পৌরসভার কলেজপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল হাসেমের ছেলে।
জানা গেছে, মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামের মো. বিল্লাল মিয়ার মেয়ে মাইশা আক্তার ও সোহাগের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে কোর্ট ম্যারেজ করে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়।
কিন্তু বিয়ের পর থেকেই মাইশা শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই তাকে নির্যাতন করতেন।
গত ১৮ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টায়, সোহাগ মিয়া ফোনে মাইশার বড় বোনকে জানান—তার স্ত্রী বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে।
এরপর মাইশার বাবা আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে ও সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করে কোথাও খুঁজে পাননি।
পাঁচ দিন পর, ২২ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মাইশার বাবা দেখতে পান—কলেজপাড়া এলাকায় সোহাগের বাড়ির পূর্ব পাশে ডোবায় কচুরিপানার নিচে একটি নারীর মরদেহ ভেসে আছে।
পরে নিশ্চিত হন—সেটি তার মেয়ে মাইশা।
পুলিশ তদন্তে জানায়, মাইশা ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। মরদেহের সাথে তার পেটে থাকা ভ্রুণও আংশিক পচা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এরপরই ভিকটিমের বাবা মাধবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহাগকে প্রধান আসামি করা হয়।
র্যাব জানায়, ঘাতক সোহাগ আত্মগোপনে ছিল। তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বর্তমানে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।





















