সারাদেশ

রংপুরে একই পরিবারের চারজন হত্যা: দুই আসামিকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

  মো. সাকিব চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার: ৩১ আগস্ট ২০২৬ , ৭:৪৭:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলেও আদালত দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পর তদন্তে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই এবং মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে তাদের তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।

তবে শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর না করে দুই দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। এ সময় তদন্তকারী সংস্থা প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে মোট ছয় ঘণ্টা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।

আদালতে শুনানির সময় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে সরাসরি হাজির করা হয়নি। তাদের পক্ষে লিগ্যাল এইডের আইনজীবীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেন।

পরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার ও মুখপাত্র সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পর তদন্তে নতুন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের পর মামলাটি আরও গভীরভাবে তদন্তের প্রয়োজন হওয়ায় রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।

এদিকে, রোববার ডোপ টেস্টের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, পরীক্ষার ফলাফলে তাদের শরীরে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

 

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর ওই এলাকার বাসিন্দা মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

আরও খবর

Sponsered content