প্রতিনিধি ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২:১১:২০ প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনাটি ‘পূর্বপরিকল্পিত’ বলে নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস মোট ৮০ বার পরস্পরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
গতকাল সোমবার রাতে বিষয়টি আমাদের সময়কে নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটনের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের আগে এবং পরে দুই আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস ৮০ ঘণ্টায় ৮০ বার কথা বলেছেন। এবং হত্যাকাণ্ডের আগে ১১ ঘণ্টায় ৩০ বার কথা বলেছেন। হত্যাকাণ্ডের আগে সিদ্ধার্থ তার দুইটা নাম্বার থেকে মুগ্ধর ১টা নাম্বারের সঙ্গে আগের ১২ ঘণ্টায় ৩০ বার কথা বলেছে। এ কলগুলো সবি সিদ্ধার্থের করা। সিদ্ধার্থ মুগ্ধকে ছোট ছোট কল দিচ্ছিল। ১৩,১৫,১৭ সেকেন্ডের কল ছিল। ২০ তারিখের মধ্যে সর্বোচ্চ কল ছিল ৯৬ সেকেন্ডের।
সনাতন চক্রবর্তী আমাদের সময়কে বলেন, এই কনভারসেশনটা ২২ তারিখ সন্ধ্যা ৮টা থেকে পূর্বের ৮০ ঘণ্টার। এই সময়ে তাদের বাইরের লোকজনের সঙ্গেও কথা হয়েছে। এই মুহুর্তে এটা বলা যাবে না। তাহলে তারা সাবধান হয়ে যেতে পারে। এখন পর্যন্ত আমরা দুইজনের কনভার্সসেশনের প্যাটার্ন দেখে অনুভব করছি এটা হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া ঘটনা নাও হতে পারে। এটার পিছনে পরিকল্পনা থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তদন্তে আমরা হত্যাকাণ্ডে দুইজনের সম্পৃক্ততাই পেয়েছি।
এদিকে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ডোপ টেস্টের ফলাফলকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে; কারণ গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবনের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়েছিলেন। এ সময় গণপতি চক্রবর্তী দেখে ফেলে বাধা দেওয়ায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। তারা হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে ৯টি ইয়াবা সেবনের স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছিলো।
গতকাল সোমবার বিকেলে রংপুর মেট্রোপলিটনের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে গত রোববার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে দুই আসামির প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরিনের ডোপ টেস্ট ৭ দিনের মধ্যে করলেই মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব। গ্রেপ্তারের ৯ দিন পরে আসামিদের নমুনা সংগ্রহ করে ডোপ টেস্ট করায় মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। তবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া, নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের দুদিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার বিকেলে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
প্রসঙ্গত, গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি থানা থেকে মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে নিযুক্ত করা হয়।





















