মোঃ মিজানুর রহমান মিন্টু,স্টাফ রিপোর্টার ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৩:০০:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ
হিমালয় থেকে বয়ে আসা উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে দেশের শেষ প্রান্তের উপজেলা তেঁতুলিয়া। টানা দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহে হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন, আর রাত নামলেই প্রকৃতি হয়ে উঠছে আরও নির্মম।
এমন কনকনে শীতের রাতে, যখন সাধারণ মানুষ লেপ-কাঁথার উষ্ণতায় নিজেকে আড়াল করে রাখে, ঠিক তখনই মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে পথে নামেন তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু। গভীর রাতেও তিনি তার টিম নিয়ে ছুটে বেড়ান অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে উষ্ণতার পরশ পৌঁছে দিতে।
কুয়াশাচ্ছন্ন আঁধার রাতে মানবতার মশাল হয়ে প্রশাসনের গাড়ি ছুটে চলে তেঁতুলিয়া, তিরনইহাট, সিপাইপাড়া হয়ে দেশের একেবারে শেষ সীমানা বাংলাবান্ধা পর্যন্ত। আজিজনগর, শালবাহান, বুড়াবুড়ি, ভজনপুর হয়ে দেবনগর—প্রতিটি এলাকায় রাস্তার ধারে কুঁকড়ে থাকা অসহায় মানুষের খোঁজে থামে প্রশাসনের গাড়ি। উদ্দেশ্য একটাই—তীব্র শীতে জবুথবু মানুষগুলোর গায়ে একটু উষ্ণতার পরশ জড়িয়ে দেওয়া।
বরাদ্দের তুলনায় চাহিদা সীমিত হলেও জনগণের অধিকার ও প্রাপ্য সরকারি শীতবস্ত্র অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকৃত অসহায়দের হাতে পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ সত্যিকার অর্থেই ‘জনগণের জন্য প্রশাসন’ ধারণার বাস্তব প্রতিফলন হয়ে ওঠে।
এই রাতে পথের ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষদের কাছে ইউএনও নিজেই হয়ে ওঠেন আপনজন। পাশাপাশি কনকনে ঠান্ডায় রাত জেগে দায়িত্ব পালন করা নাইট গার্ডদের হাতে তুলে দেওয়া হয় কম্বল। যাঁরা সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেও নিজেরাই শীতে কাঁপছিলেন।
দিনভর কঠোর পরিশ্রম শেষে জীর্ণ ঘরে কিংবা হোটেলের এক কোণে রাত কাটানো শ্রমজীবী মানুষ ও এতিম শিশুদের মুখেও ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি। শীতবস্ত্র জড়িয়ে দেওয়ার মুহূর্তে ছিন্নমূল মানুষগুলোর চোখের জল আর হাসি যেন শীতের রুক্ষতাকেও হার মানিয়ে দেয়।
গতকাল বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দুই শতাধিক অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে রাষ্ট্রের মমতার প্রতীক হিসেবে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. আকাশ, সহকারী প্রোগ্রামার নবীউল কারিম সরকার এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসার জিয়াউর রহমান।




















