আইন-আদালত

২ দিনের রিমান্ডে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রিপন

  প্রতিনিধি ২২ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:০২:১১ প্রিন্ট সংস্করণ

‎জুলাই আন্দোলনের যাত্রাবাড়ীতে দীন ইসলাম বেপারী হত্যার মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ)সভাপতি কামরুল হাসান রিপনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন।

‎এর আগে গত ২০ জানুয়ারি রাত আড়াইটার দিকে রিপনকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ‘মারধর করে’ লোকজন রিপনকে পুলিশে দেয়। মারধরে আহত হন রিপন। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

‎পরদিন গত ২১ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, যাত্রাবাড়ি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল সরদার তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। তবে সেদিন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে বৃহস্পতিবার রিমান্ড শুনানির দিন রাখেন।

‎আজ শুনানিকালে রিপনকে আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট ওবায়দুল ইসলামসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

‎শুনানিকালে আদালতের অনুমতি নিয়ে রিপন বলেন,‘আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। সরকার পতনের সময় হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। আমি দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছি, কিন্তু কেউ আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তুলতে পারেনি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলাম। আমাকে মব করে পরিবারের সামনে মারধর করা হয়েছে।’

‎তিনি বলেন,‘আমি শারীরিকভাবে খুব অসুস্থতা অনুভব করছি। আমার হার্টের সমস্যা রয়েছে। অসুস্থতার কারণে বাসায় ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত না।’ একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রিপন। পরে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন তিনি।

‎শুনানি নিয়ে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয় বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মহিন উদ্দিন।

‎দীন ইসলাম বেপারী হত্যা মামলায় অভিযোগ করা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানে সরকার পতনের দিন, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট দুপুর দেড়টার দিকে ছাত্রজনতা শাহবাগের উদ্দেশে মিছিল বের করে। মিছিলটি যাত্রাবাড়ী থানার সামনে চৌরাস্তায় পৌঁছালে পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা করে।

‎তখন দীন ইসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যান। এ ঘটনায় গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়।