সারাদেশ

দাঁতের মাড়ির মাংস কাটার পর রক্তক্ষরণ, কিশোরের মৃত্যু : মোহনগঞ্জে হাতুড়ে চিকিৎসকের চেম্বারে ভাঙচুর

  মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি ১১ আগস্ট ২০২৬ , ২:০০:৫৭ প্রিন্ট সংস্করণ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে দাঁতের মাড়ির পাশে বেড়ে ওঠা অতিরিক্ত মাংস কাটার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মো. লিয়ন মিয়া (১৪) নামে এক কিশোরের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় লোকজন কথিত ওই চিকিৎসকের চেম্বারে ভাঙচুর চালিয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে লিয়নকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত লিয়ন মিয়া মোহনগঞ্জ পৌরশহরের টেংগাপাড়া এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম হিরণের চেম্বার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কের পাশে। চেম্বারে তাঁর নামের সঙ্গে ‘এলএমএএফ’ ও ‘ডিএমএ’ পদবি লেখা রয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকালে লিয়নের দাঁতের মাড়ির পাশে মাংস বেড়ে যাওয়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের চেম্বারে থাকা রফিকুল ইসলাম হিরণের কাছে তাকে নিয়ে যান এক ব্যক্তি। পরিবারের দাবি, ওই ব্যক্তি হিরণকে ভালো চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।

স্বজনদের অভিযোগ, হিরণ লিয়নের মাড়ির বাড়তি মাংস কেটে দেওয়ার পর থেকেই রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে ওষুধপত্র দিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়। পরদিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে আবার হিরণের কাছে নিয়ে যান। তখন তিনি নতুন করে ওষুধপত্র দেন বলে স্বজনরা জানান। তবে এতে লিয়নের অবস্থার উন্নতি হয়নি।

সোমবার দুপুরে লিয়নকে আবার হিরণের কাছে নেওয়া হলে তিনি তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দন্ত চিকিৎসক ডা. জয়া রানী দেবনাথের কাছে নিয়ে যান। লিয়নের অবস্থা গুরুতর দেখে জয়া রানী দেবনাথ তাকে দ্রুত ময়মনসিংহে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে রেফার করেন। এরই মধ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকা অবস্থায় লিয়ন অচেতন হয়ে পড়ে। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লিয়নের বাবা খোকন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘লিয়নের দাঁতের মাড়ির পাশে মাংস বেড়ে যাওয়ায় শনিবার সকালে তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। গেটের কাছে এক ব্যক্তি ভুল বুঝিয়ে হিরণ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। পরে জানতে পারি, ওই ব্যক্তি দালাল। হিরণ মাড়ির অতিরিক্ত মাংস কেটে দেওয়ার পর থেকেই রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এরপর কয়েক দফা তার কাছে নিয়ে গেলেও লিয়নের অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহে রেফার করেন। কিন্তু তার আগেই লিয়ন অচেতন হয়ে পড়ে এবং পরে মারা যায়।’

অভিযোগ অস্বীকার করে রফিকুল ইসলাম হিরণ বলেন, ‘ওই ছেলের দাঁতের মাড়ির মাংস পচে ক্যান্সার হয়ে গিয়েছিল। আমি শুধু ড্রেসিং করেছি, কোনো অপারেশন করিনি। তেমন বেশি রক্তক্ষরণও হয়নি। আমার চিকিৎসার কারণে তার মৃত্যু হয়নি। আগে থেকেই তার অবস্থা খারাপ ছিল। প্রয়োজন হলে ময়নাতদন্ত করা হোক।’

তিনি আরও বলেন, তাঁর চেম্বারে হামলা চালিয়ে যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং তিনি এর বিচার চান। তবে নিজের চিকিৎসাসংক্রান্ত যোগ্যতা ও চেম্বারে ব্যবহৃত পদবি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অলক কান্তি তালুকদার বলেন, ‘বিষয়টি ওই সময়ই চিকিৎসকরা আমাকে জানিয়েছেন। এলএমএএফ কোর্সধারীরা কোনো চিকিৎসক নন। কোনো রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার এখতিয়ার তাঁদের নেই।’ তিনি সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকা দন্ত চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল লতিফ বলেন, খবর পেয়ে সোমবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

আরও খবর

Sponsered content