প্রতিনিধি ২ অক্টোবর ২০২৬ , ১:২৪:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ
মাদারীপুরের শিবচরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও তরুণ-যুবকদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি বহু আক্রান্ত রোগী নিজ বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রচুরসংখ্যক রোগী জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে আসছেন। গত দুই মাস ধরে ডেঙ্গু পজেটিভ রোগীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেঙ্গুর পাশাপাশি সম্প্রতি শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপও ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১১৪ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের অধিকাংশই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। আজ শুক্রবার হাসপাতালে ১১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যার মধ্যে শিশু, যুবক এবং বয়স্ক নারী-পুরুষ রয়েছেন।
অন্যদিকে, সেপ্টেম্বর মাসেই হামে আক্রান্ত হয়ে ৩০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। চলতি মৌসুমে মোট ১৩৬ জন হামের রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৫ জন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীদের স্বজনেরা জানান, জ্বর হওয়ার পর পরীক্ষা করালেই ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের শরীর অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়ছে।
আকলিমা বেগম নামে এক রোগীর স্বজন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন নয় এবং কাঙ্ক্ষিত সেবার অভাব রয়েছে।
জুলেখা নামে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, পাঁচদিন দিন ধরে ভর্তি। তবে প্লাটিলেট বৃদ্ধি পাওয়া ও রোগীদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় কেউ কেউ দু-এক দিনের মধ্যে বাড়ি ফেরার আশাও করছেন।
এদিকে প্রতিদিন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মৌসুমী জ্বর ও সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। চিকিৎসকেরা জানান, বর্তমান মৌসুমে জ্বর হলেই শরীর অস্বাভাবিক দুর্বল হয়ে পড়ছে।
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. ইব্রাহিম মিয়া জানান, গত দুই মাস ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। চলতি মাসেও আক্রান্তের হার বেশি থাকতে পারে, তবে এরপর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করবে বলে আশা করছি। আমরা আমাদের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ডেঙ্গুর পাশাপাশি শিশুদের হামের সংক্রমণ বাড়লেও সিংহভাগ রোগীই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।





















